মাইদুল রাসেল, সুনামগঞ্জ

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৫:৪৪

আজও চালু হয়নি শাহ আবদুল করিমের স্বপ্নের সঙ্গীতালয়

শাহ আবদুল করিমের গানের এখন জয়জয়কর। সুরে-বেসুরে, করিমের নাম উল্লেখ করে- না করে যে যার মতো করে গাইছে তাঁর গান, জন্মদিবস-মৃত্যুদিবস এলেই শুরু হয়ে করিমবন্ধনা। টিভি, পত্রিকা কিংবা ফেসবুক- সর্বত্রই উপচে পড়ছে করিমপ্রেম। এখানে-ওখানে তাকে নিয়ে কত অনুষ্ঠান। অথচ আজও অপূর্ণ থেকে গেছে শাহ আবদুল করিমের স্বপ্ন।

শাহ আবদুল করিমের স্বপ্ন ছিলো, তাঁর গান সঠিক কথা ও সুরে চর্চা হবে। বাউল গানের প্রসার ঘটবে। এই স্বপ্ন পুরণের লক্ষ্যে নিজের বাড়ির পাশে একটি সঙ্গীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন বাউল সম্রাট। দিরাইয়র উজানধলে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির নাম 'শাহ আবদুল করিম সঙ্গীতালয়'।
অথচ ৩১ বছরেও চালু করা যায়নি শাহ আবদুল করিমের স্বপ্নের এই সঙ্গীতালয়। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অচল হয়ে পড়ে আছে এ প্রতিষ্ঠানটি। একটি টিনসেডের ছাড়া আর কিছুই নেই এখানে।

বাউল সম্রাট বেঁচে থাকতে এই টিনসেডের ঘরে অন্যান্য বাউল-ভক্তদের আড্ডা বসতো। গান হতো। করিমের মৃত্যুর সেসবও অনেকটা কমে এসেছে।

আজ নানা আয়োজনে যখন পালিত হচ্ছে শাহ আবদুল করিমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। তখন পিতার এই স্বপ্নটা পুরণ করতে না পারার কষ্ঠ পীড়া দেয় দেয় বাউল পুত্র শাহ নুর জালালকে।

শাহ নুর জালাল সিলেটটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিলো তার সঙ্গিত বিদ্যালয়টি জীবিত অবস্থায়ই পুর্ণাঙ্গভাবে তৈরী করে যাবেন কিন্তু তা করতে পারেননি। আজও তা অপূর্ণই থেকে গেছে। এখন আমরা পরিবারের সদস্যরা, ভক্ত, শিষ্যরাসহ সবার প্রাণের দাবি, এই সঙ্গীত বিদ্যালয়টি চালু করতে সরকার যেনো উদ্যােগী হয়। এছাড়া একটি যাদুঘর নির্মাণ করে শাহ আবদুল করিমের স্মৃতি সংরক্ষনের উদ্যোগ নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জানান, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সংরক্ষণের অভাবে করিমের স্মৃতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে, করিমের ভক্তরা মনে করেন, বাউলসম্রাট প্রতিষ্ঠিত সংগীত বিদ্যালয় এখনও চালু না হওয়ায় শুদ্ধ ও অবিকৃত সুরে তার গানের চর্চা হচ্ছে না। অনেকেই সুর বিকৃত করে এমনকি গানের কথা বিকৃত করেও করিমের গান গাওয়া হচ্ছে। এগুলো বন্ধে অনতিবিলম্বে তার প্রতিষ্ঠিত এই সংগীত বিদ্যালয় চালুর দাবি জানান তারা।

শাহ আবদুল করিমের জীবনীকার, লোকগবেষক সুমনকুমার দাশ বলেন, পৃষ্ঠপোষকতা ও উদ্যোগের অভাবে করিমের সঙ্গীত বিদ্যলয়টি চালু করা যাচ্ছে না। এখনো অবকাঠামো তৈরি করাই সম্ভব হয়নি। সরকার কিংবা করিম ভক্তরা এই বিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসলে তা চালু করা সম্ভব হবে।

শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টম্বর শনিবার তার কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে পৃথিবির মায়া ছেড়ে চলে যান। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার তাকে সিলেটের নূরজাহান হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আই সি ইউ তে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তিনদিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আব্দুল করিম কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন একুশে পদকসহ দেশ বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত