১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:০১
বন ও পরিবশ নিয়ে মন্ত্রী আনোয়ার হেসেন মঞ্জুর বিরূপ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট সুলতানা কামাল।
তিনি বলেন, একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে থেকে বন ও পরিবেশ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য শোনাটা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
সম্প্রতি সিলেটে এসে পরিবেশ কর্মীদের সাথে সাক্ষাতকালে বন ও পরিবেশ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন। এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সিলেটটুডেটুয়েন্টিফোরডটকম’এ এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বনমন্ত্রী বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই মানবাধিকার কর্মী।
শনিবার সকালে বাপা’র আয়োজনে রাতারগুল সংরক্ষনে নৌসভা ও বন পরিদর্শন করেন সুলতানা কামাল।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে মন্ত্রীর মন্তব্য প্রসংগে তিনি বলেন, “যে কথাটা আমাদের আজকের বক্তৃতায় এসেছে, আামাদের কাজী খলিকুজ্জামান সাহেব কিন্তু পরিষ্কার বলেছেন যে, বনমন্ত্রীর কাছে আমরা খুব কিছু প্রত্যাশা করি না। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে এইরকম মানুষের হাতে আমাদের বন রক্ষার দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এবং, যিনি মানুষকে এবং প্রকৃতিকে আলাদা করে ফেলেন। কিভাবে তিনি এ কথাটি বলেছেন তা বোধগম্য হওয়ার কোনো উপায় আমাদের কাছে নেই। কারন আমরা সেইভাবে কোনোকিছু দেখি না। তবে যিনি এধরনের কথা বলতে পারেন, আমরা সেটার অবশ্যই নিন্দা জানাই। আমাদের কাছে এটা অত্যন্ত ক্ষোভের ব্যাপার যে, একজন- মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্বে যিনি বসে আছেন, এত দ্বায়িত্বশীল পদে বসে আছেন মন্ত্রী মহোদয়। তাঁর মুখ থেকে এধরনের কথা এসেছে এটা আমি মনে করি দেশের দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছুই না”।
এর আগে সিলেটটুডেটুয়েন্টিফোরডটকম’এ বিশ্ব পরিবেশ দিবসের বিশেষ প্রতিবেদনে বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর পরিবেশ ভাবনা নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করা হয়। সিলেটের কয়েকজন পরিবেশকর্মীকে ভর্ৎসনা ও বাঘ জরিপ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর দেশের পরিবেশকর্মী ও সচেতন মহলে সমালোচিত হন মন্ত্রী।
পরিবেশকর্মীদের সাথে আলাপকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছিলেন, "বাঘ রক্ষা করার জন্য আমাকে ১৩শ' মিলিয়ন (থার্টিন হান্ড্রেড মিলিয়ন ডলার) দিছে। আমি বক্তৃতায় বলছি যেখানে মানুষ রক্ষা করতে পারতেছি না, এত্ত মানুষ...সেখানে আমি চারশো বাঘ রক্ষা করব? সুন্দরবনের মধ্যে বাঘে আর মানুষে ঘুমায়। তুই জানোস? আমি ওই এলাকা থেইকা আসছি। সুন্দরবনের মধ্যে মানুষ বসবাস করে। ধর তুমি বাঘ আমি মানুষ। বাঁচার অধিকার কার প্রথম? আমার। এখন যে দুই চারশো আছে...আল্লাহ জানে কত আছে। পয়সা দিছে লেইখা দিছি ৪৪০ টা । তাই না...এটা বাস্তব।"
পরিবেশ রক্ষায় মন্ত্রীর পদক্ষেপ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন- "১৬ কোটি মানুষের দেশ নিয়া লুটপাট হইতেছে আর তুমি আমার ১৫টা গাছ নিয়ে হইচই করতেছ"।
পরিবেশবাদী সংগঠন ও এনজিও বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "এনজিও একটা ব্যবসা, সবচেয়ে বড় ব্যবসা"
বিদেশিদের অর্থে পরিবেশ নিয়ে কথাবলা হয় উল্লেখ্য করে মন্ত্রী বলেন, "আমরা এখন পরিবেশ নিয়ে কথা বলছে কেন? কারণ বিদেশীরা আমাদের পয়সা দেয়"। উপস্থিত এক পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "তোমাকে না দেয় আমাকে দেয়।"
পশ্চিমা বিশ্বের দিকে ইঙ্গিত করে মঞ্জু বলেন, "ওই বিদেশীরা এখন ধান্দা তুলছে পরিবেশ বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও। তারাই আবার সরকারকে দেয় ৩ পয়সা, বেসরকারিদের দেয় ২ পয়সা। আর পরিবেশ দূষণ করতেছে তো তারা। কলকারখানা চালাইয়া, প্লেন চালাইয়া, জাহাজ চালাইয়া। আমারা যেন প্রতিবাদ না করি সেজন্য আমাদের পকেটে ২ টাকা দিয়ে বলে- নে যা পরিবেশ ঠিক কর।"
ভিডিও : সুলতানা কামালের বক্তব্যের ভিডিও দেখতে নিচে ক্লিক করুন
আপনার মন্তব্য