১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০১:৪০
মন্ত্রীরা চেয়ারে বসেই নিজেদেরকে খুব জ্ঞানী ভাবেন। বাকি সবাইকে তারা মুর্খ মনে করেন। আমরা শিক্ষানীতি করেছিলাম, এতে রয়ে গেছে অনেক বৈষম্য। অভিভাবক সম্মেলন ডেকে এসব বৈষম্য চিহ্নিত করে শিক্ষানীতি সংশোধন করতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি রেস্তোরার হল রুমে গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও এফআইভিডিবির আয়োজনে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা ও সবার জন্য শিক্ষা : ২০১৫-উত্তর কর্মকাঠামো’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ এসব কথা বলেন ।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শ্রেণীতে ভবিষ্যতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। প্রধানমন্ত্রী এই বৈষম্য ধরতে পেরেছেন। পিএসসি পরীক্ষা যে সুফলের আশায় চালু হয়েছিল, সেটা ব্যর্থ হয়েছে। এটা বন্ধ করে দেয়া উচিত।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলেছেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করে দেশের টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ উন্নয়নের সাথে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ভোগ বৈষম্য, আয় বৈষম্য, সম্পদ বৈষম্য অবৈধভাবে বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার না হলে কোনো উন্নয়ন কর্মকান্ড সফল হবে না। জনগণ এক হলে দুর্নীতিবাজরা ভয় পাবে।
তিনি দেশের সুশীল সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দুর্নীতি সম্পর্কে বস্তুনিষ্ট কথাবার্তা বলুন, বাহবা পাওয়ার আশায় মিথ্যা কথা বলবেন না। গণতন্ত্রের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে সমাজ থেকে দুর্নীতি আমাদেরকেই দূর করতে হবে। না হলে উন্নয়ন হবে না। গণতন্ত্র পরিপূর্ণ রূপ পাবে না।
এফআইভিডিবির নির্বাহী পরিচালক যেহীন আহমেদের সভাপতিত্বে ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরীর পরিচালনায় অতিথির বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আইন ও শালিস কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন, অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য্য, শাবিপ্রবির সহযোগী অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম, খন্দকার মশিউর রহমান, কয়েস আহমদ, হোসনে আরা, বাবুল আখতার, মো. আবু নাসের, গল্পকার সেলিম আউয়াল, বদরুল ইসলাম, গৌরাঙ্গ পাত্র, আইন শালিস কেন্দ্রের সানাই ফাহিম, রজব আলী, কাউসার মিয়া প্রমুখ।
ড. খালিকুজ্জামান আরও বলেন, বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার। সরকার নিজেদের অর্থায়নে অনেক উন্নয়ন কাজ করেছে।
সুলতানা কামাল তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেম আজ বিশ্বে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। দেশে ন্যায় বিচারের বড়ো অভাব। মানুষ অসহায়ের মতো বৈষম্যের শিকার। মানুষের ধারণা পুলিশের কাছে গেলে ন্যায় বিচার পাব না। পুলিশ মামলা নেবে না। বিচার পাবার আশা মানুষ ছেড়ে দিয়েছে।
এটা থেকে মানুষকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারকে সহযোগিতা করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়তে হবে। দুর্নীতিবাজদের বর্জন করতে হবে। তা না হলে দুর্নীতি কখনো দূর হবে না। দুর্নীতি দূর হলে আইনের শাসন প্রতিষ্টিত হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্টিত হবে। দুষ্টের দমন হবে, শিষ্টের পালন হবে।
খুশী কবীর বলেন, নারী পাচার হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে, নারীর উপর জুলুম হচ্ছে এগুলো বন্ধ করতে হবে। যে সরকারই দেশ চালাক না কেনো আমরা গণতন্ত্র চাই। এ সরকার জনগণ এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে কাজ করবে।
রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, জবাবদিহির সংস্কৃতি চালু না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। মানুষ তার সব মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
আপনার মন্তব্য