১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১১:৪০
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া প্রতিশ্রুতির ছয় বছর হয়ে গেলেও এখনও দৃশ্যমানভাবে শুরু হয়নি সে কাজ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও চিঠি আদান-প্রদানের মাধ্যমেই সীমিত হয়ে আছে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা, চুনাপাথর, আমদানী ও বালি, পাথর, ধান রফতানীর মধ্যে দিয়ে সরকার পাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। আর পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শুধু অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে তাহিরপুরের পর্যটন শিল্প স্থাপনের কর্যক্রম।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও চিঠি আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে তাহিরপুরে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির ৬ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কোন প্রকার উদ্যোগ নেওয়া হয় নি। অথচ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন টাংগুয়ার হাওর, বারেক টিলায় দেশের বিভিন্ন স্থানের পর্যটক আসছে সারা বছরেই।
জীব বৈচিত্র্যে ও বিপুল সম্পদে, সৌন্দর্যে ভরপুর টাংগুয়ার হাওর, ভারতীয় মেঘালয়ের সীমান্ত ঘেষা বারেকটিলা, রুপের নদী, সম্পদের নদী, সৌন্দর্যের নদী যাদুকাটা থাকা সত্ত্বেও পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন উপজেলার সর্বস্থরের জনগণ।
অথচ পর্যটন কেন্দ্র বাস্তবায়ন হলে সরকার যেমন লাভবান হত সেই সাথে এলাকার শিক্ষিত বেকার লোকজনের র্কমসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হত।
জানা যায়, জোট সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য শত কোটি টাকার পরিকল্পনা করা হয়। কোন কাজেই আসে নি এসব কার্যক্রমের। ১৯৯৪ সালে বিএনপির প্রয়াত সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী সাইফুর রহমান টেকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্পে এক জনসভায় তাহিরপুরে একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, একটি কাঁচ শিল্প ও টাংগুয়ার হাওর,
বারেকটিলায় একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ২১বছরেও তা পূরণ হয় নি।
অন্য দিকে ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাহিরপুর উপজেলা সদরে এক বিশাল জনসভায় টাংগুয়ার হাওর, বারেকটিলা, যাদুকাটা নদী, টেকেরঘাটকে ঘিরে পর্যটন শিল্প স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সে প্রতিশ্রুতির পর পর্যটন করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেন। সীমান্ত এলাকার প্রায় ৫০একর জায়গায় এই পর্যটন কেন্দ্রের অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে ভূমি প্রত্যয়নের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে ২০১১সালে ১৫মে একটি পত্রে মতামত চাওয়া হয়।
ভূমিতে অনাপত্তি জানিয়ে প্রত্যয়ন করে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে ঐ পত্রে নিদের্শনা দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ৩০ জুন মন্ত্রণালয় ১৮৪৮ নং স্মারকে আরেকটি পত্র জেলা প্রশাসনকে পাঠায়। জেলা প্রশাসন উক্ত ভূমিতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য অনাপত্তি জানিয়ে আরেকটি প্রত্যয়ন পত্র ও প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এভাবেই একের পর এক প্রতিশ্রুতি আর ফাইল ও প্রস্তাবনা আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাহিরপুরে পর্যটন শিল্পের কর্যক্রম।
যার ফলে তাহিরপুর উপজেলা বাসীর মাঝে এক প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী কি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন?
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান- নিবার্চন আসলে ও কোন বড় ধরনের সমাবেশ হলেই নেতা-নেত্রীদের মুখে শুধু আশার বাণী শুনতে পাই, অথচ কাজের বেলায় কিছুই নাই। আমরা তাহিরপুরবাসী শুধু কি আশার বাণী শুনতেই বেচেঁ আছি।
তাহিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান- টাংগুয়ার হাওর ও বারেকটিলায় পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করা এখন সময়ের দাবী। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় পর্যটকদের এখানে বেড়াতে আসা দিনদিন কমে যাচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান- বারেকটিলায় যারা বসবাস করছে তাদের অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। আর পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন হলে স্থানীয় বেকার যুবকদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান- টাংগুয়ার হাওর ও বারেকটিলা তাহিরপুর উপজেলার আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের উপযোগী স্থান। পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন হলে অবহেলিত তাহিরপুরবাসী ও স্থানীয় জনসাধারণের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন সুযোগ হবে।
আপনার মন্তব্য