নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৪:৪৯

এ যেনো ‘আরেক গণজাগরণ’!

সড়কে গোল হয়ে বসে শ্লোগানের পর শ্লোগান চলছে। ‌'ভ্যাট দিবো না/ গুলি কর,' শিক্ষা কোনাে পণ্য নয়/ শিক্ষায় ভ্যাট নয়'- এমন নানা শ্লোগান। তেমন কোনো বক্তৃতাবাজি নেই, মাঝেমাঝে কেবল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা দু'একজন কথা বলছেন। শিক্ষার্থীদের হাতে প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন। সবগুলোতে শিক্ষায় ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি। আন্দোলনকারীরা বসে পড়ায় বন্ধ হয়ে পড়েছে সড়কটির যান চলাচল।

নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টের আজ (রবিবার) দুপুরের দৃশ্য এটি। দুপুরে চৌহাট্টা সড়ক দিয়ে যেতে যেতে ব্যাংক কর্মকর্তা আসিফ রহমানের মন্তব্য- এ তো দেখি আরেক গণজাগরণ!

দুই বছর বছর আগে একইভাবে চৌহাট্টা এলাকা মুখরিত হয়েছে শ্লোগানে শ্লোগানে। ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের ডাকে চৌহাট্টা সড়কে জড়ো হতো সিলেটের মানুষ। আজ আবার এই এলাকায় জড়ো হয়েছে বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা।

আগের দিনের মতো আজো সকাল ১১ টা থেকে চৌহাট্টা সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। প্রখর রোদ অপেক্ষা করে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীদের সমাগম। চড়া হতে থাকে শ্লোগানের সুর।


সিলেটের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বেসরকারি মেডিকেল কেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয় আন্দোলনে।

এদিকে, নগরীর সুরমা মার্কেটের সামনে লিডিং ইউনিভার্সিটর শিক্ষার্থীরা একইভাবে অবস্থান নিয়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানায়। এতে বন্দরবাজার-তালতলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শরীফ আহমদ বলেন, সরকার এখন টালবাহানা শুরু করেছে। একদিন বলছে- শিক্ষার্থীরা ভ্যাট দেবে তো আরেকদিন বলছে- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাট দেবে। এসব টালবাহানা করে লাভ নেই আমাদের এক দফা এক দাবি, ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে। দাবি পুরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ছি না।

দুপুর ২ টায় আজকের মতো অবস্থান শেষ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর চালু হয় জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কে যান চলাচল।

আন্দোলনকারীরা আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, শিক্ষাখাতে ভ্যাট প্রত্যাহারের পূর্ব পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ভ্যাট প্রত্যাহারের পূর্ব পর্যন্ত প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচী পালন করবেন তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের টিউশন ফির উপর সাড়ে সাত শতাংশ কর আরোপ করে সরকার।

কর আরোপের প্রতিবাদে প্রথম থেকেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা।

চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিক্ষার্থী নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করবে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এবং অর্থমন্ত্রী সিলেটে সংবাদ সম্মেলনেও একই কথা বলেন।

তবে শুক্রবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি'র উপর আরোপিত ভ্যাট এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। তবে আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থীদেরকেই ভ্যাটের টাকা প্রদান করতে হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত