১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৬:৪৫
অবশেষে দশ বছর পর শুরু হয়েছে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার কাজ। রোববার সিলেট দ্রুত বচার ট্রাইবুন্যালে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ। সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে আলোচিত এ মামলার চার্জ গঠন করেন।
মামলার ৩২ আসামীর মধ্যে ১৪ জন কারাগারে, ৮ জন জামিনে এবং ১০ জন পলাতক রয়েছেন। এরআগে নানা নানা জটিলতায় দীর্ঘ দশ বছর আটকে ছিলো এ মামলার বিচার কাজ। সর্বশেষ মামলার অন্যতম আসামী আরিফুল হকের অসুস্থতার কারনে নয় দফা পিছিয়ে যায় অভিযোগ গঠনের শুনানি।
রোববার অভিযোগ গঠনকালে আদালতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেট সিটি করপোরশেনের সাবেক মেয়র আরিফুলহ চৌধুরী, হবগিঞ্জ পৌর মেয়র জিকে গৌছ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ কারাবন্দি ও জামিনে থাকা ১৪ আসামী।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হরিছ চৌধুরীসহ ৮ আসামীকে পলাতক দেখিয়েই শুরু হয় বিচার কাজ।
রোববার অভিযোগ গঠনের শুনানী শুরুর আগে এর আগে ট্রাইব্যুনালে আসামী সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবী অব্যাহতির আবেদন করেন। একই সাথে অন্য ২২ জন আসামীর জামিনের প্রার্থনাও করা হয়। অব্যাহতি ও জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন বিচারক। এরপর সাথে আরিফুল হককে চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার আবেদন করেন তার আইনজীবী।এ আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জেল সুপার সিলেটকে সিলেটে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে কি না তা জানাতে নিদেৃশ দিয়েছেন। এসময় মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন বিচারক।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। হামলায় নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী।
এ ঘটনায় ওই রাতেই হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করেন।
আলোচিত এ মামলায় তিন দফা তদন্তের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর হারিছ, আরিফ, গউছসহ ১১ জনের নাম যোগ করে মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন।
এরপর আরিফ ও গউছ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক তা নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠান। সরকার তাদের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুলল্লাহ মামলাটি বিচারের জন্য গত ১১ জুন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন। এ আদালতেই এই মামলার বিচার হবে।
অভিযোগ গঠন শেষে আরিফুল হক চৌধুরীর আইনজীবী মো. লালা বলেন, আরিফুল হক চৌধুরী গুরুতর অসুস্থ। আমরা তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেছি। আশা করছি আদালত তা বিবেচনায় নেবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি কিশোর কুমার কর দশ বছর পর মামলাটির বিচার কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, আশা করছি দ্রুত বিচার আইনের যে নির্ধারিত সময়, সেই সময়ের মধ্যেই বিচার কাজ শেষ হবে।
আপনার মন্তব্য