প্রদীপ দাশ সাগর,

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৮:২৬

৮ দিন পর শাহজিবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চালু

হবিগঞ্জের শাহজিবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমারে অগ্নিকান্ডে বিকল হওয়ার ৮ দিন পর বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় একটি ইউনিট চালু হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ তিনটি বুসিং এর মধ্যে দুটি পরিবর্তন এবং একটি মেরামত করার পর বিকেল সাড়ে ৩টায় ট্রান্সফরমার চালু করা হয়। সন্ধ্যায় চালু হয় উৎপাদন কেন্দ্র। চালু করার পর কোন ধরণের সমস্যা দেখা দেয়নি।

ট্রান্সফরমারের বুসিং নষ্ট হওয়ায় এ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রীডে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ৮ দিন ধরে বন্ধ ছিল।

বৃহস্পতিবার একটি ইউনিট থেকে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ শুরু হয়। শুক্রবার অপর ইউনিটটি চালু হবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ট্রান্সফরমারের একটি বুসিং ইনসুলেটর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্থ বুসিং ইনসুলেটরটি পরীক্ষার জন্য টঙ্গীতে পাঠানো হয়। শাহজিবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেন্দ্রে একটি বুসিং ইনসুলেটর মজুদ থাকায় ধারণা করা হয়েছিল সেটি পরিবর্তন করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যাবে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন  ট্রান্সফরমারের তিনটি বুসিং পরিবর্তন করতে। ফলে অতিরিক্ত ২টি বুসিং সংগ্রহ করতে যোগাযোগ করা হয় এ্যানার্জি প্যাক ও আরপিসিএল কোম্পানীর সাথে।

সর্বশেষ ময়মনসিংয়ের শম্ভুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে দুটি বুসিং পাওয়া যায়। সেখান থেকে আনা হয় একটি বুসিং। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ একটি বুসিং মেরামত করা হয়। সোমবার থেকে বুসিং পরিবর্তন ও মেরামতের কাজ চলে। বুধবার কাজ শেষ হলে মেশিন এনে শুরু হয় ট্রান্সফরমারের তেল শোধনের কাজ।

মেরামত কাজের নেতৃত্ব দেন পিডিবির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল খালেক, শ্রীমঙ্গলস্থ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমি,  শাহজীবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ধূর্জটী প্রসাদ সেন। ঘোড়াশাল থেকে আসেন আরও দুই জন প্রকৌশলী। স্থানীয়দের সাথে নিয়ে তারা কাজটি সম্পন্ন করেন।

শাহজিবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ম্যানেজার ধূর্জটী প্রসাদ সেন জানান, বুসিং পরিবর্তন ও তেল শোধন শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ট্রান্সফরমার চালু করা হয়। কোন ধরনের সমস্যা হয়নি। পরে সন্ধ্যা ৬টায় উৎপাদন কেন্দ্র চালু করা হয়।

১৯৬৮ সালে স্থাপিত এ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ৯টি ইউনিটের মধ্যে অনেক আগেই ৭টি ইউনিট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

২০০০ সালে স্থাপিত ৩০ মেগাওয়াট করে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৮ ও ৯ নং ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রীডে ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।

৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেল সন্ধ্যার আগে ওই ইউনিট দু’টির ট্রান্সফরমারের বুসিং ইনসুলেটর হঠাৎ করে বিকট শব্দে ফেটে আগুন ধরে যায়।

নিজস্ব ব্যবস্থাপনা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। নতুন মেশিন স্থাপনের ১৫ বছর পর এই সমস্যা দেখা দেয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত