১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:০০
মৌলভীবাজারে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে আর্ন্তজাতিক শিক্ষা বাণিজ্য প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১১ টায় মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে মিছিল শুরু হয়ে মৌলভীবাজার শহরস্থ চৌমুহনায় সমাবেশের মাধ্যমে মিছিল সমাপ্ত হয়।
ছাত্র ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহবায়ক মিটন দেনাথের সভাপতিত্ত্বে ও সদস্য বিপাশা দাশগুপ্তের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সমন্ময়ক আবুল হাসান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে শাখার সাধারন সম্পাদক কৌশিক দে, সংগঠক রেহনোমা রুবাইয়াত।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সর্বজনীন শিক্ষার দাবিতে আন্দোলনের ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সর্বজনীন শিক্ষার আকাঙ্খা এদেশের মানুষের অপূরিত রয়ে গেছে। প্রতিবছর আমাদের দেশে জন্ম নেয় ৩২ লাখ শিশু, এর মধ্যে পি.এস.সি পরীক্ষা দেয় ২৯ লক্ষ, জে.এস.সি পরীক্ষা দেয় ১৬ লক্ষ, এস.এসসি পরীক্ষা দেয় ১২ লক্ষ শিক্ষার্থী, এইচ.এস.সি পরীক্ষা পর্যন্ত টিকে থাকে ১০ লক্ষ শিক্ষার্থী আর উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে পারে মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ৫-৬ ভাগ।
২০১২ সাল পর্যন্ত দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৬ হাজার, ২০১৩ সালে এর সাথে যুক্ত হয় আরও ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড স্কুল। ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুলের মধ্যে মাত্র ৩১৭টি সরকারি, সরকারি কলেজের সংখ্যা মাত্র ২৮৯টি আর ১২০ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র ৩৭টি।
শিক্ষাকে দেশি-বিদেশি পুঁজির মুনাফার ক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রণীত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ এ শিক্ষাখাতে এই বেসরকারি বিনিয়োগকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। দেশের মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিংহভাগই এখন বেসরকারি। এসকল প্রতিষ্ঠানে পড়তে প্রয়োজন প্রচুর অর্থ।
বক্তারা আরো বলেন, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদী কৌশলপত্র উচ্চশিক্ষা সংকোচনের দলিল হিসেবে আভির্ভূত হয়েছে। পিপিপি এর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো তথা বস্তুগত সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে আবার হেকেপ এর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তথা ভাবগত সম্পত্তিতে এখন দেশি-বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ চলছে। এভাবেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তার চরিত্র হারাতে বসেছে।
আপনার মন্তব্য