১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২০ ১৮:২০
স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে জৈন্তাপুর উপজেলায় সরকারি খাদ্য গুদামে সংগ্রহীত ধান সংগ্রহ করে মজুদ রাখতে হিমসিম খেতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। জৈন্তাপুর সরকারি খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৫শ মেট্রিক টন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জৈন্তাপুর খাদ্য গুদামে ৬শ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা সহকারী খাদ্য পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। তাই বাকি একশ মেট্রিক টন ধান মজুদ করা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। সামান্য বৃষ্টি আসলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে মজুদ করা এসব ধান।
এই বছর সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করতে উপজেলার প্রতিটি এলাকায় মাইকিং ও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। ফলে ধানের দাম ভালো হওয়াতে প্রতিদিন কৃষকগণ অনেকটা আগ্রহী হয়ে সরাসরি খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করতে আসেন। তবে খাদ্য গুদামের স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে অনেক কৃষক ধান বিক্রি না করে হতাশাগ্রস্ত হয়ে ফিরেও যাচ্ছেন।
জৈন্তাপুর সরকারি খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বর মাসে উপজেলায় সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। জৈন্তাপুর সরকারি খাদ্য গুদামে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৫শ মেট্রিক টন। সরকার হতে চলতি বছরে জৈন্তাপুর উপজেলা ২ হাজার ২শত ৬৯ মেট্রিক টন ধান এর মধ্যে চাল মজুদ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৪শ ৬৯ মেট্রিক টন। এই মজুদের জন্য ইতোমধ্যে অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য পরিদর্শক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী ১হাজার ৭শত ৬৮ জন কৃষকের সংগ্রহকৃত ধান নিজেদের চাহিদা পূরণের পর বিক্রি করতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর উপজেলায় চলতি বছরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৬ টাকা হারে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং ১৮শ ১৯ মেট্রিক টন আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। পরবর্তীতে এই লক্ষ্যমাত্রায় আরও ৪শ ৬৯ মেট্রিক টন বৃদ্ধি করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক ধান নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন। ভেতরে জায়গা না থাকায় কৃষকের ধান ওজন দিয়ে বাইরে মজুদ করে রাখা হয়েছে। এ সময় খাদ্য নিয়ন্ত্রক সিরাজদৌলা জানান, গুদামের ভেতরে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা না থাকায় সাময়িকভাবে ধান বাইরে রাখা হয়েছে। গুদাম খালি হওয়ার সাথে সাথে তা ভেতরে নিয়ে রাখা হবে। জৈন্তাপুর উপজেলায় খাদ্য গুদামে স্থান সংকটের বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক কৃষক গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ধান নিয়ে আসেন তাই তাদের ফিরিয়ে না দিয়ে আমরা চেষ্টা করছি ধান সংগ্রহ করতে। আশা করি সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। ৪শ ৬৯ মেট্রিক টন চালের পরিবর্তে ধান সংগ্রহ করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত সকল কৃষকের ধান সংগ্রহ করা হবে। তবে বৃষ্টি আসার সম্ভাবনা থাকায় খোলা আকাশের নিচে মজুদ করা ধানগুলো নিয়ে চিন্তিত রয়েছি। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই দুই-একদিনের মধ্যে এর একটি সমাধান হবে বলে আমরা আশাবাদী।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত অন্তত ৩শ জন কৃষকের নিকট থেকে ৬শ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিদিন এলাকার কৃষকগণ ধান নিয়ে আসছেন খাদ্যগুদামে। খাদ্য গুদামে পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় আমরা বারান্দায় ধান মজুদ রাখার ব্যবস্থা করেছি। ইতোমধ্যে সিলেটের কেবিবিএম অটোরাইসমিলের সাথে সিদ্ধ চাউল ভাঙ্গানোর জন্য চুক্তি করা হয়েছে। ১শ ৩৫ মেট্রিক টন ধান তাদের কাছে সরবরাহ কারার পর মিল মালিক চাউল তৈরি করে পুনরায় গুদামে সরবরাহ করার কারণে ধান সংগ্রহে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।
তিনি বলেন, মজুদ করা ধানগুলো দ্রুত স্থানান্তরিত করা না হলে, আরও ধান সংগ্রহ করে এখানে মজুদ রাখা আমাদের জন্য অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয় কৃষকগণ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান নিয়ে এসে তখন বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হবে। এছাড়া চলতি বছরে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা করে আরও ১৭১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করতে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য