২০ জুলাই, ২০২৬ ১৭:০৬
টানা বৃষ্টিতে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। এতে সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সোমবার কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি ছাতক (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে প্রবাহিত হচ্ছিল বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে।
কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছিল।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমার পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি কমেছে। তবে নদী দুটির পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
তাতে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নদী দুটির কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। আর যেসব এলাকায় বন্যা চলছে, সেসবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।
ভারতের মণিপুর রাজ্যের আঙ্গামি নাগা পাহাড় থেকে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে এসে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি স্রোতধারায় বিভক্ত হয়। এ দুই নদী কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের কাছে মিলিত হয়ে মেঘনা নদী গঠন করে, যা চাঁদপুরে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী দুই দিন বাড়তে পারে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে সারিগোয়াইন, যাদুকাটা নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
তাতে নদী লাগোয়া নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। আর যেসব এলাকায় বন্যা চলছে, সেসবে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।
এদিকে যাদুকাটা ও সারি গোয়াইন নদীর উজানে ভারতের মেঘালয়ে গেল ২৪ ঘণ্টায় অতি ভারি বৃষ্টি হয়েছে।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ২৭৯ ও তুরায় ১০১ ও আর কে এম সোহরায় ২৮২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া আসামের গোয়াহাটিতে ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আপনার মন্তব্য