২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৭:১৯
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে। থানা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বেলা সাড়ে ৪টায় শ্রীমঙ্গল শহরতলীর শাদি মহল কমিউনিটি সেন্টারে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাহবুবুর রহমান। থানা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেবের সভাপতিত্ত্বে ও শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কে এম নজরুল এর পরিচালনায় উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সিলেট বিভাগের ডিআইজি মো: মিজানুর রহমান পিপিএম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শহীদুল হক, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব সভাপতি ও চায়ের দেশ সম্পাদক গোপাল দেব চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল কমিউনিটি পুলিশিং এর সহ-সভাপতি ডা. হরিপদ রায়, শ্রীমঙ্গল কমিউনিটি পুলিশিং এর সম্পাদক মোঃ ইউছুব আলী, শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ লুৎফুর রহমান, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মনোয়ারা সুলতানা, দ্বারিকাপাল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগ সম্পাদক এম এ মান্নানসহ আরো অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি মিজানুর রহমান পিপিএম বলেন, আইন শৃংখলা একটা কথা আছে বাংলাদেশের সারা পৃথিবীতেই উন্নয়ন যদি হয় পুলিশের আইন শৃংখলারও উন্নয়ন করতে হবে। আইনশৃংখলার যদি উন্নতি না হয় উন্নয়ন হবে না। আমাদের সদস্য সংখ্যা ১ লক্ষ ৬০ হাজারের উপরে। এই ১৭ কোটির দেশে মাত্র দেড় লক্ষ পুলিশ দিয়ে আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রন, অপরাধ নিয়ন্ত্রন করা একটি বিশাল কষ্ট সাধ্য কাজ। কিন্তু সম্ভব হয়েছে কাদের জন্য জনগনের জন্য। এদেশের জনগন পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করে। আজকের সমাবেশ সেই লক্ষ্যে। আপনারা জানেন যে কমিউনিটি পুলিশের শ্লোগান আছে “জনতাই পুলিশ, পুলিশই জনতা”। আজকে যে কমিউনিটির বিভিন্ন লিডারস আছেন বিভিন্ন গোষ্ঠী, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আছেন, বিভিন্ন স্টেক হোল্ডার আছেন। তাদের সমন্বয়ে আজকে কিন্তু সমাবেশ। এখানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আছেন, সাংবাদিক ভাইয়েরা আছেন জনপ্রতিনিধিরা আছেন সমাজের পরিচিত লোক আছেন এবং আমরা পুলিশ বাহিনীর সদস্য আছি। লক্ষ্য উদ্দেশ্য হলো একটি সুন্দর বাংলাদেশ একটি সুন্দর শ্রীমঙ্গল কিভাবে আমরা উপহার দিতে পারি সেই ব্যাপারে।
তিনি আরো বলেন, জঙ্গী তৎপরতা সারা বাংলাদেশে আপনারা দেখেছেন যে একই দিনে সারা বাংলাদেশে বোমা হামলার মতো ঘটনা হয়েছে ৬৪টি জেলায়। এই ধরনের ঘটনা যখন হচ্ছে তখন আমাদের আরো সজাগ হতে হবে। বাংলাদেশে কিন্তু ২১ আগষ্টের মতো দুর্ঘটনা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর বোমা হামলা হয়েছে। আল্লাহ তাকে বাঁচিয়েছেন। সুতরাং যারা ইসলামের নামে জঙ্গী তৎপরতা চালায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বাংলাদেশ পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা আছে সবাই কিন্তু বদ্ধ পরিকর। কোন সন্ত্রাসীর স্থান, কোন আল-কায়দার স্থান, কোন আইএস এর স্থান বাংলাদেশ নয়। বাংলাদেশ কি জিনিস সেটা একাত্তরে পাকিস্তান বুঝে ছিল। একাত্তরে বাংলাদেশের জনগন কি জিনিস সেটা বুঝে ছিল এই পাকিস্তান। আজকে দেখেন বিভিন্ন অনেক দেশ পাকিস্তানকে ভিসা দেয় না। সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্থান, পাকিস্তানের নাম রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে উজ্জল মুখ নক্ষত্র হয়ে আছে এবং থাকবে। যদি আমরা সবাই ঠিক থাকি।
আপনার মন্তব্য