নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০২:৪৩

কোরবানির পশুর চামড়া পাচার হওয়ার শঙ্কা সিলেটের ব্যবসায়ীদের

আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির দেয়া পশুর চামড়া ভারতে পাচায় হয়ে যাওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীরা। গত বছরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার পিস চামড়া পাচায় হয়ে যায় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চামড়া পাচার রোধে এবার কঠোর প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিলেট শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর দুই থেকে আড়াই লাখ চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন সিলেটের ব্যবসাযীরা। এ বছরও একই ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছেন তারা। তবে সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় প্রতিবছরই প্রচুর সংখ্যক চামড়া ভারতে পাচার হয়ে যায় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, পাচারকারীরা দালালদের মাধ্যমে গ্রামগঞ্জ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে। এছাড়া মসজিদ মাদারসার নামে উত্তোলিত চামড়াগুলোও তারা কৌশলে সংগ্রহ করে পাচার করে দেয়। এতে ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন জানিয়ে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া চামড়া পরিবহনে কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানিয়েছেন।

সিলেট শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি শেখ শামিম আহমদ বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া কোরবানির চামড়া অন্যত্র নেয়া হলে তা পাচারের শঙ্কা থাকে। লবণজাতকরণের পর ঢাকাসহ দেশের অন্যত্র চামড়া নিলে পাচারের শঙ্কা কমে যায়।

শামিম আহমদ বলন, গত কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ চামড়া আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। এরফলে সারা বছর ধরে লাখ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে ঈদের সময় এসে আমরা চামড়া সংগ্রহ করতে পারছি না। ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।

নগরীর ঝলোপাড়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, আগে চামড়া নিয়ে গ্রামের লোকজন সরাসরি আসতেন পাইকারি ব্যবসায়ীদের আড়তে। গত কয়েক বছর ধরে তারা আসছেন না। তিনি বলেন, গ্রামের চামড়ার মালিকরা বস্তাবন্দি করে চামড়া নিয়ে শহরে আসার পথে তাদের কাছ থেকে চামড়া নিয়ে যায় দালালরা। পরে ট্রাক বোঝাই করে পাঠিয়ে দেয় ভারতে।

তিনি বলেন, স্থানীয় কিছু সুাবিধাভোগীর সহযোগিতায় বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানার জন্য সংগৃহিত চামড়া কৌশলে এ চক্রটি হাতিয়ে নেয়।

এদিকে চামড় পাচার রোধে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীরা গত বুধবার সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা সিলেট থেকে শেরপুর-আখাউড়া হয়ে যাতে চামড়া পাচার না হয়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনিক টহল জোরদারদারের দাবি জানান। এছাড়া চামড়া ব্যবসায়ীদের আইডি কার্ড ছাড়া বহিরাগত কেউ যাতে চামড়া ক্রয় করতে না পারে এ ব্যাপারেও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান বলেন, কোরবানি করা পশুর চামড়া পাচাররোধে আমরা তৎপরতা শুরু করেছি। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া সিলেট থেকে কাঁচা চামড়া দেশের অন্যত্র নেয়া যাবে না। কারণ এতে পাচারের আশঙ্কা থাকে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত