২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ২২:০৯
সিলেট নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডে পশু কোরবানির জন্য স্থান নির্ধারণ করে এসব স্থানে কোরবানি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলো সিটি করপোরেশন (সিসিক)। তবে সিটি করপোরেশনের এই আহ্বানে তেমন সাড়া মেলেনি। শুক্রবার নগরীর সবক’টি ওয়ার্ডেই যত্রতত্র পশু কোরবানি দিতে দেখা গেছে। বেশিরভাগ নগরবাসীই নির্দিষ্ট স্থানের বদলে নিজের বাসার আঙ্গিনায় কিংবা বাসার সামনে সড়কে কোরবানি দেন।
তবে সিসিকের এই উদ্যোগ সফল না হওয়ার জন্য প্রচারণার অভাবকেই দায়ি করেছেন নগরবাসী। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে মাত্র একটি স্থান নির্ধারণ করে দেওয়ায় সেসব স্থানে গিয়ে পশু কোরবানি দেয়া প্রায় অসম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
নির্ধারিত স্থানে কোরবানি প্রধানের আহ্বানে সাড়া না দেওয়া প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের কনজারভেন্সি অফিসার হানিফুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এবার প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রচরণা প্রচারণ্ওা কম হয়েছে। তাই অনেকেই বাড়ির আঙ্গিনা ও রাস্তাঘাটে পশু কোরবানি দিয়েছেন। আগামীতে এ ব্যাপারে আরো প্রচারণা চালাতে হবে। তাছাড়া নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগী হতে হবে।
শুক্রবার ঈদের জামাতের পর নগরী ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ওয়ার্ডের সিসিকের নির্ধারিত স্থানগুলো ফাঁকা, অথচ বাড়ির আঙ্গিনা ও রাস্তাঘাটে দেদারছে চলছে পশু জবাইয়ের কাজ।
অবশ্য্ই এবছর সিসিক নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডে কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারন করার পর থেকেই এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কোনো প্রচারণা না করায় নগরীর বেশিরভাগ বাসিন্দাদের কাছেই পৌছেনি এই আহ্বান। স্থান নির্ধারণ নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান লোদী কয়েস বলেন, তার ওয়ার্ডের যে এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি পর্যাপ্ত নয়। অনেকের বাসা-বাড়ি ওই এলাকা থেকে অনেক দূরে। গরু জবাই করার পর মাংস নিয়ে বাড়ি ফেরা খুবই কষ্টকর হবে। তাই অনেকেই নির্ধরিত স্থানে কোরবানি দেননি।
নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আশরাফ হোসেন নিজের বাসার সামনে রাস্তায় পশু জবাই প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিবছরই আমি এ স্থানে কোরবানি দেই। তাছাড়া এবছর স্থান নির্ধারনের বিষয়টি আমার জানা নেই।
এদিকে নির্ধারিত স্থানের বদলে রাস্তাঘাটে পশু জবাই করায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক স্থানে বর্জ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতের মধ্যে সব বর্জ অপসারণ করা হবে।
কনজারভেন্সি অফিসার হানিফুর রহমান বলেন, কোরবানির বর্জ অপসারণের জন্য নিয়মিত ৩শ’ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পাশাপাশি অতিরিক্ত আরো একশ’ পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করছে। ২০ টি ট্রাক বর্জ অপসারণে ও ৬ টি ভ্রাম্যমান পানির ট্যাংক বর্জ পরিষ্কারে নিয়োজিত রয়েছে। আশা করছি শুক্রবার রাতের মধ্যে কোরবানির বর্জ অপসারণ করা সম্ভব হবে।
আপনার মন্তব্য