হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৬:৩৩

কিবরিয়া হত্যার বিস্ফোরক মামলা : বিচারক নেই, তাই পিছিয়ে গেলো তারিখ

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলার চার্জশীট দাখিলের পর বিচারের জন্য আমলী আদালত থেকে বিচারিক আদালতে স্থানান্তরিত করা হয়নি।
রোববার মামলার নির্ধারিত তারিখে নিয়মিত বিচারক না থাকায় বিচারিক হাকিম মো. কাউছার আলম এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন ১৩ অক্টোবর।

রোববার মামলার পূর্ব নির্ধারিত তারিখে জামিনে থাকা ১ম চার্জশীটভুক্ত ৮ আসামী সাবেক জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি একেএম আব্দুল কাইয়ূম, জয়নাল আবেদিন জালাল, জমির আলী, জয়নাল আবেদিন মমিন, তাজুল ইসলাম, সাহেদ আলী, সেলিম আহমেদ এবং আয়েত আলী উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবিরা বলেন যেহেতু মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে তাই বদলী করা হোক। কিন্তু বিচারক বিষয়টি শুনানীর প্রয়োজন রয়েছে বললে আইনজীবিরা একটি সংক্ষিপ্ত তারিখ দিতে অনুরোধ করেন। বিচারক এজলাস থেকে নেমে বিকেলে পরবর্তি তারিখ হিসেবে ১৩ অক্টোবর নির্ধারণ করেন। গত ২৪ আগস্ট চার্জশীটে কিছু অসংগতি থাকায় সেটি শুনানীর জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছিলেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নিশাত সুলতানা।

সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যাকান্ড নিয়ে দায়ের করা দুইটি মামলার চার্জশীটও প্রায় অভিন্ন। হত্যা মামলার চার্জশীটে খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেটের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের বরখাস্তকৃত মেয়র জি কে গউছসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এর মাঝে দুইজনের নাম-ঠিকানা সঠিক না থাকায় এবং একজন মারা যাওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানানো হয়। ওই মামলায় যাদেরকে আসামী করা হয়েছে বিস্ফোরক মামলায়ও তাদেরকে একইভাবে একই অভিযোগে আসামী করা হয়েছে। বিস্ফোরক মামলায় এটি ৩য় চার্জশীট। এর পূর্বে ১ম চার্জশীটে ১০ জন এবং ২য় চার্জশীটে ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করা হয়। ৩য় চার্জশীটে মোট ৩৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। ১ম চার্জশীটের ১০ জনের মধ্যে ৮ জন জামিনে। দুই আসামী কাজল আহমেদ ও মহিবুর রহমান ২০০৫ সাল থেকেই পলাতক। তাদেরকে ১০ বছরেও গ্রেফতার করা যায়নি।

আদালত সূত্র জানায়, গত ১২ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেরুন্নেছা পারুল কিবরিয়া হত্যকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার কারাগারে থাকা আসামীদেরকে বিস্ফোরক মামলায় শ্যোন এ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেন। এ প্রেক্ষিতে গত ১ জুন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী ও আলহাজ্ব জি কে গউছসহ কারাগারে থাকা সকল আসামীকে শ্যোন এ্যারেস্ট দেখানোর আদেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্পূরক চার্জশীট তৈরি করে গত ১০ আগস্ট সবার অগোচরে তা দাখিল করেন। এর আগে কিবরিয়া হত্যাকান্ডের সম্পূরক চার্জশীটও তিনি সবার অগোচরে দাখিল করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ ৫ জন। এতে আহত হন বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির এমপিসহ ৪৩ জন।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান এমপি বাদি হয়ে সদর থানায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলার বিচারের কাজ সিলেটের দ্রুত বিচার আদালতে শুরু হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত