তপন কুমার দাস, বড়লেখা

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৩:২৮

ঈদ উৎসবে মাধবকুন্ডে পর্যটকের ঢল

ঈদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ঈদের রেশ কাটেনি এখনো। এখনো বিরাজ করছে ঈদের আমেজ। অনিন্দ্যসুন্দর নিসর্গের মায়াপুরী মৌলভীবাজার জেলার উত্তর প্রান্তিক জনপদ বড়লেখা উপজেলায় এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড়।

দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় জলপ্রপাত মাধবকুন্ড, দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ চা বাগান, আকাশস্পর্শী পাথারিয়া পাহাড় ও নয়নাভিরাম হাকালুকি হাওর পর্যটকের মন ও দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত : প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি ‘মাধবকুন্ড জলপ্রপাত’। পাথারিয়া পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে অবিরাম জলধারায় এক চিরযৌবনা জলপ্রপাত ‘মাধবকুন্ড’। বর্ষার সমস্ত প্রাচুর্য নিয়ে, দেশ-বিদেশের হাজোরো পর্যটকের জন্য অপার সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে সাজিয়ে রাখে নিজেকে।
ঈদ উৎসবে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ঝর্ণাধারার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঢল নেমেছে পর্যটকের। পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত জলপ্রপাত ও আশপাশের এলাকা। পর্যটকের আগমনে হাসি ফুটে উঠেছে পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীদের মাঝে।

ইজারাদার সুত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে এ জলপ্রপাতে।

একসময় বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে প্রাকৃতিক জলপ্রপাত মানেই ছিলো মাধবকুন্ড। এখন দেশের ভেতরে আরো অনেক জলপ্রপাতের সন্ধান মিলেছে। তবে এখনো জলপ্রপাত অনুরাগী পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ মাধবকুন্ডই। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভিড় জমান এই ঝর্ণাধারার সৌন্দর্য উপভোগে।

মাধবকুন্ড যাওয়ার উত্তম সময় হচ্ছে বর্ষাকাল, এই সময় ঝর্ণা পানিতে পূর্ণ থাকে। এবার ঈদ বর্ষাকালে হওয়ায় ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা ভিড় করেছেন মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে।

প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, সুবিশাল পর্বত গিরি, শ্যামল সবুজ বনরাজি বেষ্টিত ইকোপার্ক, পাহাড়ী ঝরনার প্রবাহিত জলরাশির কল কল শব্দ সবমিলিয়ে মাধবকুন্ড বেড়াতে গিয়ে পাওয়া যায় এক স্বর্গীয় আমেজ। এই স্বর্গীয় আমেজের খুঁজেই ঈদের ছুটিতে দলে দলে পর্যটকরা ভিড় করেছেন মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে। উৎসব প্রিয় সব মানুষের গন্তব্য যেন মাধবকুন্ড জলপ্রপাত।

সরেজমিনে মাধবকুন্ড জলপ্রাতে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ ও বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থী ও পর্যটকের মিলনমেলায় মুখরিত।

পর্যটকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য পর্যটন কর্পোরেশনের নির্মাণ করা হাতি, পেঙ্গুইন, মৎসকন্যা, বাঘ, ভালুক, বক, ঈগল পাখি, কুমির, বানর ইত্যাদির ভাষ্কর্য আগত শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীকে বাড়তি আনন্দ প্রদান করছে।

হাকালুকি হাওর : এদিকে এবারের ঈদ বর্ষাকালে হওয়ায় এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে। হাওরের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য বন বিভাগের নির্মাণ করা ওয়াচ টাওয়ার, জল সিড়ি দৃষ্টি কেড়েছে সবার।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামান জানান, মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশ সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত