নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৭:০৮

নগরীতে ‘কথায় কথায়’ গোলাগুলি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান নেই

ফাইল ছবি

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর উপশহরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে সংঘাত বাঁধে। সংঘাতের শুরুতেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। একই রাতে নগরীর পাঠানটুলায় পূর্ববিরোধের জের ধরে ছাত্রদলের দু'পক্ষে সংঘাতে এক পক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে অপরপক্ষ।

একরাতে ঘটা কেবল এই দুটি ঘটনাই নয়, সিলেট নগরীতে গোলাগুলির ঘটনা এন প্রায় নিত্তনৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। কথায় কথায় গুলিবিময়ের ঘটনা ঘটছে। বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শনী। প্রতিটি সংঘাত-সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া চললেও এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটাও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে পারে নি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নেই কোনো বিশেষ অভিযানও। অনেকক্ষেত্রে পুলিশের সামেনই ঘটে অস্ত্রের মহড়া-গোলাগুলি। কিন্তু অস্ত্রবাজরা বেশিরভাগক্ষেত্রেই সরকারদলীয় ক্যাডার হওয়ায় অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের কোনো তৎপরতাই পরিলক্ষিত হয়নি। বরং অস্ত্রবাজদের পালিয়ে যেতেই অনেকটা সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

বাউল শাহ আবদুল করিমের গানের একটা বিখ্যাত লাইন আছে- 'কোথা হতে আসে নৌকা কোথায় চলে যায়?' প্রায় প্রতিদিনই অস্ত্রবাজি-গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এসব অস্ত্রের কোনো খোঁজ পায় না, উদ্ধার করতে পারে না, এমন বাস্তবতায় বাউলসম্রাটের সেই গোলকধাঁধাঁই ফিরে আসে ভিন্ন প্রসঙ্গে- 'কোথা হতে আসে অস্ত্র, কোথায় চলে যায়?'

সিলেট মহনগর ছাত্রদলের সভাপতি নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদও মনে করেন গত এক/দুইবছর সিলেটের অবৈধ অস্ত্রর মহড়া আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। কথায় কথায় অস্ত্রের প্রদর্শনী-গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এসব বন্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

সাম্প্রতিক কয়েকটি অস্ত্রবাজির ঘটনা খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আরো অনেক সমালোচিত কর্মকান্ডের মতো সিলেটে অস্ত্রবাজি-গোলাগুলিতেও ছাত্রলীগ এগিয়ে । ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীন সংঘাত থেকেই ঘটছে গুলাগুলির ঘটনা। অস্ত্রের মহড়ার পিছিয়ে নেই সরকারী দলের অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠনও।

তেমন কোনো সংগঠনিক কর্মকান্ড না থাকলেও আভ্যন্তরীন বিরোধ থেকে প্রয়াশই অস্ত্রবাজিতে জড়িয়ে পড়ছে ছাত্রদলও। সর্বশেষ মঙ্গলবার পাঠানটুলায় ছাত্রদলের রেজাউল করিম নাচন ও আব্দুর রকিব চৌধুরী গ্রুপের মধ্যে সংঘাত থেকে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টিও। গত ৯ জুলাই জাতীয় পার্টির দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ থেকে গুলি বিনিময় ও সার্কিট হাউসে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

গত বছরের ২১ নভেম্বর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘাতে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপক মহড়া চলে। গুলিত একজন নিহতও হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও কয়েকদি রাম দা আর লাটিসোটা ছাড় এ পর্যন্ত কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারে নি পুলিশ।

গত ৭ সেপ্টেম্বর নগরীর বালুচরে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু ও ছাত্রলীগ নেতা সায়েফ গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সাতজন গুলিবিদ্ধ হন।

গত ১৯ মার্চ নগরীর তেররতনে যুবলীগ নেতা শামীম ইকবাল গ্রুপ ও ছাত্রদল নেতা দুলাল মিয়া গ্রুপের মধ্যে গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। একই এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতা শামীম ইকবাল গ্রুপের সাথে ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া মাহমুদ গ্রুপের গুলিবিনময় হয়।

কেবল এরকম কয়েকটি ঘটনা নয়। নগরীতে রাজনৈতিক সংঘাত-আভ্যন্তরীন বিরোধ থেকে প্রায়ই এমন অস্তবাজি-গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। যদিও পুলিশ এ পর্যন্ত একটা আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি।

অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শনী-গোলাগুলির ঘটনায় ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অনেকে ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু অস্ত্রবাজদের কেউই ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যদি কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অস্ত্রবাজিতে ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযােগ অস্বীকার করে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নুরুল আলম খালেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর থেকেই অস্ত্রবাজির ঘটনা বেড় গেছে। এতে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররাই জড়িত। ছাত্রদল এসবের সাথে সম্পৃক্ত নয়।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের ব্যর্থতার অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমতউল্লাহ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার পুলিশের একটি রুটিন ওয়ার্ক। প্রতিদিনই এ অভিযান চলে। বিভিন্ন সময় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারও করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত