সিলেটটুডে ডেস্ক

০২ অক্টোবর, ২০১৫ ১৮:৫৬

দূর্গাপূজায় সরকারী ছুটি বাড়ানোর দাবি

পূজা উদযাপন পরিষদের বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলন

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শারদীয় দূর্গোৎসব সনাতন ধর্মালম্বীদের বৃহত্তম উৎসব। এই উৎসব এখন বাঙ্গালীর অন্যতম একটি উৎসব হিসেবে বিবেচিত। ধর্ম যার যার- উৎসব সবার এই বিশ্বাস এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ চেতনার অংশ। তারা বলেন, পাঁচ দিনের শারদীয় দূর্গোৎসবে একদিনের সরকারী ছুটি বৃহত্তর হিন্দু জনগোষ্ঠীর মনে হতাশা ও বঞ্চনার জন্ম দিয়েছে। বক্তারা একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ৭১’র চেতনায় সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা উল্লেখ আছে দাবী করে বলেন, একমাত্র রাষ্ট্রই পারে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে। তারা দূর্গাপূজার সরকারী ছুটি বৃদ্ধি করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

বক্তারা বলেন, যখন অসুর শক্তির অত্যাচার বেড়ে যায় তখন সমাজ, ধর্ম, জাতি হুমকীর সম্মুখীন হয়। অসুর ও অশুভ শক্তি বিনাশের জন্য যুগে যুগে শুভ শক্তির আবির্ভাব হয়। আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় কিছু কিছু অশুভ শক্তির তৎপরতা গণতন্ত্র, সুশাসন ও অসম্প্রাদায়িকতার চেতনার জন্য অন্তরায়। তাদের এই অপতৎপরতাকে রুখে দিতে অসম্প্রদায়িক বাঙালীর সত্তায় ৭১’র চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

গতকাল ২ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১১টায় চৌহাট্টাস্থ ভোলাগিরি আশ্রমে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট নিরঞ্জন কুমার দের সভাপতিত্বে ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্তের পরিচালনায় বার্ষিক প্রতিনিধি সভায় সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার অন্তর্গত ও প্রতিটি ইউনিট ও পূজা কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত থাকেন। প্রতিনিধি সম্মেলনে সিলেট জেলা ও মহানগরের প্রতিটি পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সর্বসম্মতভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। সম্মেলনে আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসবে সরকার স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতিবীদ, সাংবাদিক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সম্মেলনের শুরুতেই পবিত্র গীতা পাঠ করেন বিপ্লব চক্রবর্তী। শোক প্রস্তাব ও সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্য্য।
প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শিক্ষাবিদ বিরাজ মাধব চক্রবর্তী মানস, কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, কেন্দ্রীয় নেতা অসিত ভট্টাচার্য্য, এডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, মহানগর পূজা পরিষদের প্রধান উপদেষ্ঠা এডভোকেট প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য্য, শাবিপ্রবির সাবেক প্রক্টর ও পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. হিমাদ্রী শেখর রায়, শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ড. দিলীপ কুমার দাস চৌধুরী এডভোকেট. বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রুমা চক্রবর্তী, আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডভোকেট প্রশান্ত কুমার পাল, মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র পাল, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, রাজনীতিবীদ তপন মিত্র, জেলা কমিটির সহ সভাপতি এডভোকেট স্বপন কুমার দাস, শিবব্রত ভৌমিক চন্দন, মহানগর সহ সভাপতি সুব্রত দেব, মলয় পুরকায়স্থ, ঐক্য পরিষদের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ দেব, অধ্যাপক শংকর চৌধুরী, পূঝা পরিষদের মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক চন্দন দাস, জেলা যুগ্ম সম্পাদক রঞ্জন ঘোষ, অরুন দেবনাথ সাগর, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের জেলার সম্পাদক ধনঞ্জয় দাস ধনু, পূজা পরিষদের উপজেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নরেশ চন্দ্র দাস, সজিৎ চক্রবর্তী, সুভাশ পাল, অজিত পাল, জয়ন্ত আচার্য্য, সঞ্জয় চন্দ্র নাথ, ভজন লাল দাস, বিজন দেবনাথ, নন্দন পাল, রাজু গোয়ালা, শ্রীবাস মহালী, জেলা ও মহানগর নেতা বিজন ধর, মদন মোহন কর্মকার, ভানু লাল দাস, মনোজ তান্তি দত্ত মুন্না, লিমন রাও, বিপ্র দাস, সনাতনি মহাশক্তি সংঘের শুভ তালুকদার প্রমুখ।




আপনার মন্তব্য

আলোচিত