নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ অক্টোবর, ২০১৫ ২০:১৮

মহসীনের আসনে প্রার্থী হতে চান সৈয়দ বজলুল করিম

সৈয়দ মহসীন আলীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে প্রার্থী হতে চান সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ বজলুল করিম। দলীয় সমর্থন আদায়ে ইতোমধ্যে লবিং শুরু করেছেন তিনি। নিজর অনুসারীদের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমর্থন আদায়েরও চেষ্টা করছেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সমাজ কল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী। তাঁর মৃত্যুতে শূন্য হয়ে পড়ে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদ। মহসীন আলীর মৃত্যুর পরই বেশ কয়েকজন নেতা এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর মধ্যে মহসীন পত্নী সৈয়দা সায়রা মহসীনও রয়েছেন। এছাড়া প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ও মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কামাল হোসেনসহ আরো কয়েকজন।

মৌলভীবাজার-৩ আসনে প্রার্থী হতে ইতিমধ্যে প্রচারনা শুরু করেছেন সৈয়দ বজলুল করিম বিপিএম। তাঁর পক্ষে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগরে পোস্টারিং করা হয়েছে। আওয়ামীলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এ নেতা মাঠে নামায় শুরু হয়েছে নতুন হিসেব নিকেষ।

সৈয়দ বজলুল করিম দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান। ওই সময়ও তিনি নির্বাচনী মাঠে নামেন। পরবর্তীতে ১৪ দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির কারনে দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

সৈয়দ বজলুল করিম বিপিএম ১৯৪৮ সালের ১৬ জুলাই মৌলভীবাজার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম আব্দুর রউফ ও মাতার মরহুমা জামিরুন্নেছা তরফদার। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এই তরুন যোদ্ধা। সেক্টর ৪ এর অধীনে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

সৈয়দ বজলুল করিম চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রী সম্পন্ন করেন এবং মালয়েশিয়ার পেনাং বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিপ্লোমা ইন পলিসি ডেভলাপমেন্টের উপর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে বিসিএস (পুলিশ ক্যাডারে) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন সৈয়দ বজলুল করিম।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন তিনি। ১৯৯৬-১৯৯৯ সালে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব উপ কমিশনারের পালন করেন। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ খেতাব ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল’ লাভ করেন। সৈয়দ বজলুল করিম ‘জনতার মঞ্চের’ একজন সামনের সারির অংশগ্রহণকারী হিসেবে নিজের ভুমিকা রেখে যান দৃঢ়চিত্তে। এর ফলস্বরুপ বিএনপি সরকার ২০০১ সালে তাকে জোরপূর্বক অবসর প্রদান করে।
অবসরের পূর্ব পর্যন্ত এসিস্ট্যান্ট ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ বজলুল করিম। তিনি ২০০৯-২০১২ পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এবং ২০১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন।

সদ্য প্রয়াত সৈয়দ মহসিন আলী পর পর দু’বার মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রথমবার তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের মতো বর্ষিয়ান প্রার্থীকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত