০৩ অক্টোবর, ২০১৫ ১২:৫১
কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের কালাছড়া বনবিট এলাকা থেকে ৯টি সেগুন গাছ চুরির ঘটনায় বনবিট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গাছ চুরি নিয়ে মাইজদিহি চা বাগানের ফাঁড়ি ফুলছড়ি চা শ্রমিক ও কালাছড়া ফরেষ্ট ভিলেজারদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত দু’তিন দিনে কালাছড়া বনবিট এলাকা থেকে মূল্যবান প্রজাতির সেগুন গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।
লাউয়াছড়া উদ্যানের কালাছড়া বনাঞ্চল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কালাছড়া বনবিট কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে ৯টি ছোট বড় সেগুন গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। কালের সাক্ষী হিসাবে গাছের গুড়ি পড়ে রয়েছে। ফুলছড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, কালাছড়া বনবিটের ফরেষ্ট ভিলেজার (বনগ্রামবাসী) মোহাম্মদ, হরি গৌড় ও ক্ষিরোদ দেব বর্মা বনের গাছ রক্ষা না করে তা কেটে পাচারে জড়িত রয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর উল্টো ফুলছড়ি চা বাগানের নিরিহ এক নারী চা শ্রমিক কলেসটিকা তির্কীর সন্তান গরু রাখাল লিনেট তির্কীকে গাছ চুরির অপবাদে আটক করে বন বিভাগ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। এর প্রতিবাদে ফুলছড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা রাতে পাহারা বসিয়ে ঈদের পরের দিন শনিবার দিবাগত রাতে কয়েকটি সেগুন গাছ কাটার সময় কালাছড়ার কয়েকজন ফরেষ্ট ভিলেজারকে ধাওয়া করে দিলিপ উড়াং নামের একজনকে আটক করে বনবিভাগের কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকেও গাছ চুরির দায়ে মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। স্থানীয়দের মতে, ৯টি সেগুন গাছে কমপক্ষে ৫শ’ ঘনফুট কাঠ, যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা হবে।
এদিকে কালাছড়া বনবিট এলাকার সেগুন গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় গত ১০ দিন ধরে কালাছড়া ফরেষ্ট ভিলেজার ও ফুলছড়ি চা বাগানের শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নারী চা শ্রমিক দুর্গামনি ওড়াং, মুক্তি ওড়াং, মনিলাল ওড়াং ও কারমেলা ওড়াং বলেন, গত সপ্তাহ দশ দিন ধরে তারা আতঙ্কে আছেন কালাছড়ার ফরেষ্ট ভিলেজার হিসাবে যারা গাছ চুরির সাথে জড়িত তারা কখন যে চা শ্রমিকদের উপর হামলা করে। আবার দায়িত্বে অবহেলার দায়ে বনবিভাগ (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) কালাছড়া বনিবট কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনকে প্রত্যাহার করে চাউতলী বনবিট কর্মকর্তাকে কালাছড়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।কালাছড়া বনবিটের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এখন আর তেমন কোন উত্তেজনা নেই।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) মো: সৈয়দ আলী বলেন, চোরাই গাছের খন্ডাংশসহ লিনেট তির্কী নামে এক চা শ্রমিক সন্তান ও দিলীপ উড়াং নামে একজন ফরেষ্ট ভিলেজারকে চোরাই গাছের খন্ডাংশসহ আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। একজন ফরেষ্ট ভিলেজারকে আটক করায় ভিলেজারদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও তা আলোচনাক্রমে সমাধান হয়ে গেছে। এখন কালাছড়ায় আর কোন উত্তেজনা নেই বলে তিনি জানান।
আপনার মন্তব্য