০৪ অক্টোবর, ২০১৫ ১৬:৩০
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ঐক্যজোট কর্তৃক ঘোষিত বেতন বৈষম্য ও পদোন্নতির দাবিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত অর্ধদিবস ও প্রতি শনিবার কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৫ অক্টোবর সকাল ১০ টায় কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে প্রতিকী অনশন এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করা হবে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সহকারি শিক্ষকরা আসন্ন সমাপনী বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে।
কর্মসূচি সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সমিতি (১২০৬৮) সিলেট জেলার সভানেত্রী জেসমিন সুলতানা জানান, তাদের ঐক্যজোট কর্তৃক আয়োজিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সহকারি শিক্ষকদের মান মর্যাদা, আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।
তিনি বলেন, এটা আমাদের যৌক্তিক দাবি। কোন ডিপার্টমেন্টে এত বৈষম্য নাই শুধু প্রাইমারী ডিপার্টমেন্ট ছাড়া। স্কেল বৈষম্য কর্মক্ষেত্রে এটা একটা বিরাট বৈষম্য আমাদের জন্য।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের ১০ টাকা ব্যবধান করে পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের মধ্যে একধাপ ব্যবধান অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু আজ আমরা তিন ধাপ নিচে বেতন পাচ্ছি। এতে আমাদের মান মর্যাদা ও জীবন মানের উপর প্রভাব পড়ছে। এটার প্রভাব কর্মক্ষোেত্রও পড়েছে। বর্তমানে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা নিরসন না হলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।
বাংলাদেশের প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে কেউ যে কোন পদ যোগদান করলে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে সর্বোচ্চ পদে অসীন হতে পারেন। কলেজে যারা প্রভাষক পদে যোগদান করে তারা ধাপে ধাপে প্রমোশন পেয়ে অধ্যাপক হন। পরবর্তীতে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। কিন্তু ব্যতিক্রম প্রাইমারি ডিপার্টমেন্ট। সহকারি শিক্ষক থেকে যোগ্যতা, মেধা, লবু অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কেউ উপরের পদ গুলিতে যেতে পারেন না। চাকুরি বিধিমালায় অভিজ্ঞতা শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে একজন সহকারি শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাওয়ার কথা। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে তাও বন্ধ।
আপনার মন্তব্য