০৪ মে, ২০২০ ২০:১০
শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছেন না হাওরের কৃষকরা। আবার কাজকর্ম না থাকায় অনেকেই ভূগছেন খাদ্যসঙ্কটে। প্রয়োজনীয় ওষুধও নেই অনেকের ঘরে। হাওরপাড়ের মানুষদের এই তিন সঙ্কট দূর করতে এগিয়ে এসেছে একদল তরুণ।
খাদ্যসামগ্রী, জরুরী ওষুধ, টেলিমেডিসিন সেবা ও ধান কাটার শ্রমিক নিয়ে হাওর মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এই তরুণেরা। 'হাওরের ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবে মানুষ' এই ব্যানারে করোনাভাইরাসজনিত সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকেই সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। যা অব্যাহত আছে এখনও।
এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন হাওরপাড়েরই একদল তরুণ। যারা পড়ালেখা ও পেশাগত কাজে এখন দেশের বিভিন্নস্থানে, এমনকি দেশের বাইরেও অবস্থান করেন। এই দুর্যোগে নিজেদের শেকড়ে কাছে ফিরেছেন তারা। দাঁড়িয়েছেন সেখানকার শঙ্কটাপন্ন মানুষদের পাশে।
'হাওরের ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবে মানুষ'-এর অন্যতম উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী পিনাক রায় বলেন, হাওরপাড়ের মানিষজন এখন বহুমূখী সঙ্কটে পড়েছেন। প্রথমত কাজ না থাকায় অনেকের ঘরে খাবার নেই। জরুরী প্রয়োজনে চিকিৎসক বা ওষুধ পাচ্ছেন না তারা। আবার বোরো ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছেন না কৃষকরা। এই সঙ্কট মোকাবেলায় আমরা গত ২ এপ্রিল থেকে দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় কাজ শুরু করি। প্রথমে অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করি। যা এখনো চলমান আছে। এরপর ধান কাটার শ্রমিক জোগাড় করতে উদ্যোগী হই।
তিনি বলেন, এলাকার অনেক শ্রমিকই এখন বেকার ঘরে বসে আছেন। আমরা তাদের পারিশ্রমিক দিয়ে ধান কাটায় নিয়োজিত করি। এতে কৃষকরা শ্রমিক পাওয়ার পাশপাশি আরও দুই ধরণের লাভ হয়- স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্খান হয় এবং বাইরে থেকে শ্রমিক আনার প্রয়োজন না হওয়ায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
জরুরি প্রয়োজনে পাঁচজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে হাওরপাড়ের মানুষদের টেলিমেডিসিন সেবাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মাঠে থেকে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন আইনজীবী ইফতেখার আলম। তিনি বলেন, আমরা ৬ জন কৃষককে ৩০ জন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে সহায়তা করছি। এছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচীও চলমান আছে। বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের অর্থসহায়তায় এই কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।
পিনাক ও ইফতেখার ছাড়াও এই কার্যক্রমে দেবাশীষ রায়, হেদায়েতুল আনাম, শাওন রায়, রাজু দাশ, রাজীব দাশ. মোহাম্মদ শাহান, শুভম, দেবু, রাহিনুর, কানুসহ প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এই উদ্যোগে কাজ করছেন বলে জানান তারা।
আপনার মন্তব্য