তাহিরপুর প্রতিনিধি

০৪ মে, ২০২০ ২২:১৮

তাহিরপুর অ্যাম্বুলেন্স আছে, চালক নেই!

হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি নতুন মডেলের আধুনিক ও শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার গেলেও অ্যাম্বুলেন্সটি কোন কাজেই আসছে না। কারণ নিয়োগ দেওয়া হয়নি অ্যাম্বুলেন্স চালানোর জন্য চালক। চালকের অভাবে হাসপাতালে আসা মুমূর্ষু রোগী, জরুরি প্রয়োজনে ও গুরুতর আহত রোগী নিয়ে জেলা সদরে যেত পারছেন না সাধারণ মানুষজন। এ কারণে অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী। ফলে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, জনসাধারণের স্বার্থে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে জোড় তদবির করেন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৫ই জানুয়ারি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোঁড়ে নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার হিসেবে, ৫০শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন মডেলের আধুনিক ও শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে গত চার মাস ধরে গাড়িটি হাসপাতালের ৫০শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের গেইটের সামনে পরে আছে।

আরও জানা যায়, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতালে একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়ির চালক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু গাড়ি দেওয়া হয়নি। এই চালককে সম্প্রতি সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর তাকে না নিয়ে বরং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্সটি চালানো যেত বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন


 
এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স আছে এমন সংবাদ জেনে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার থেকে বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলো জেলা সদরে যাওয়ার জন্য জরুরি রোগীদের নিয়ে আসেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে । কিন্তু চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পেয়ে জরুরি রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। ফলে বাধ্য হয়ে লেগুনা বা সিএনজিতে যেত হয় তাদের। ফলে চালক না থাকায় প্রায় সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

এছাড়াও হাসপাতালে এক্সরে মেশিনটি গত ৫ বছরের অধিক সময় ধরে একটি কক্ষে তালা বদ্ধ আছে। ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই ১৫ বছর ধরে ফলে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হলে বাহিরে যেতে হয়।

উপজেলার সচেতন মহল জানান, অ্যাম্বুলেন্সেই যদি দেওয়াই হল তাহলে এটিতো চালক ছাড়া চালানো যাবে না তাই দ্রুত হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও হাসপাতালের চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া খুবই প্রয়োজন।

বাদাঘাট ইউনিয়ন থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স আছে এমন বিষয় জেনে জরুরি এক রোগী নিয়ে হাসপাতালে হাজির হয় আজিজ মিয়া। কম খরচে জেলা সদরে যেতে পারবেন এই আশায় আসলেও চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সের বঞ্চিত হয়ে সিএনজি দিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাকে। এমনি ভাবে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।     

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. ইকবাল হোসেন জানান,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট সহ অ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এর  সমাধান হবে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকার সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এই বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব এই বিষয় দ্রুত সমাধানের জন্য।            

আপনার মন্তব্য

আলোচিত