মারূফ অমিত; ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

০২ জানুয়ারি, ২০১৫ ১৯:৩৮

শরণার্থী নিয়ে টানাটানিঃ ক্ষু্ব্ধ তরুণ গগৈ

জঙ্গি হামলার পরে অসম থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়া শরণার্থীদের নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়েছে বাংলা-অসমে রাজ্যে



জঙ্গি হামলার পরে অসম থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়া শরণার্থীদের নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়ে গেল দুই রাজ্যের। পরিস্থিতি এমন যে, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে অবশ্য এ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
অসম সরকারের ক্ষোভ প্রকাশের কারণ কী?
অসম থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কুমারগ্রামে চলে যাওয়া কয়েকশো শরণার্থীর সঙ্গে দিন কয়েক আগে দেখা করতে যান গোসাইগাঁয়ের মহকুমা শাসক অমলেন্দু রায়-সহ কয়েক জন আধিকারিক। কিন্তু অভিযোগ, শরণার্থীদের সঙ্গে তাঁদের দেখাই করতে দেননি স্থানীয় মহকুমা শাসক! এমনকী অমলেন্দুবাবুরা যে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গিয়েছিলেন, তা-ও ফেরত পাঠানো হয়। পরের দিনও অসমের ওই আধিকারিকদের শরণার্থী-শিবিরে যেতে বাধা দেওয়া হয়। তরুণ গগৈ বলেন, “অসম থেকে ছ’-সাতশো আদিবাসী পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আমরা ওঁদের ফেরানোর জন্য তৈরি। কিন্তু অবাক কাণ্ড, আমাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শরণার্থীদের দেখা করতেই দেওয়া হচ্ছে না!” মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ, “আমি এই ধরনের মনোভাব আগে কখনও দেখিনি!”



অসমের স্বরাষ্ট্র কমিশনার প্রতীক হাজেলা জানান, ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া শরণার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু কুমারগ্রামে যা ঘটেছে, তাতে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর অবাক। দফতরের কর্তাদের প্রশ্ন, “সাধারণত এক রাজ্যের মানুষের বোঝা অন্য রাজ্য বইতে চায় না। যত দ্রুত সম্ভব শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোই রেওয়াজ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন উল্টোপথে হাঁটছে?”
এনডিএফবি (সংবিজিৎ) জঙ্গিদের নাশকতার পরে মানুষ কুমারগ্রামের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সঙ্গে কয়েক দিন আগে দেখা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি ওই শরণার্থীদের পশ্চিমবঙ্গেই পাকাপাকি থাকার আমন্ত্রণ জানান। পরিবারগুলির ফেলে যাওয়া গবাদি পশুগুলিকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতেও নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনকে। মমতার এই সিদ্ধান্তকে মোটেই ভাল চোখে দেখছে না অসম সরকার। রাজ্য প্রশাসনের এক রাজনৈতিক সূত্রের কথায়, “অসম পরিস্থিতির শিকার। আর সেই সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্রেফ রাজনীতি করছেন!”
অসম সরকারের ক্ষোভের মুখে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তারা। তবে নবান্নের এক কর্তা পাল্টা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে দিলেন! স্বরাষ্ট্র কমিশনার বিবৃতি দিচ্ছেন! ওঁদের তো সবার আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল! আমরা তো শরণার্থীদের আটকে রাখিনি। ওঁরা নিজেরা যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে করবেন, ফিরে যাবেন।” কিন্তু অসমের অফিসারদের কেন দেখা করতে দেওয়া হয়নি? রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের এক কর্তা বলেন, “শরণার্থী শিবিরের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ ছিল। অসম সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন শরণার্থীরা। এই কারণেই অসমের অফিসারদের ওখানে যেতে দেওয়া হয়নি।”




জঙ্গি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসমের রাজ্য-রাজনীতিতেও চাপানউতোর চলছে পুরোদমে। আজ কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল কোকরাঝাড় ও গোঁসাইগাঁওয়ের বিভিন্ন ত্রাণ শিবির ঘুরে দেখে নিজের ক্ষোভ চেপে রাখেননি। গগৈ গত কাল প্রশ্ন তুলেছিলেন, “কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা নাশকতার খবর আমাদের আগে থেকে জানালেও তারা নিজেরা কেন ব্যবস্থা নেয়নি? কেন জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় ঠিক সময় মাঠে নামেনি সেনা বা আধা সেনা?” সোনোয়াল আজ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা তো প্রাথমিক ভাবে রাজ্যের অধিকারভুক্ত বিষয়।” তাঁর কথায়, “গগৈ সরকার জনগণকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত।”
জঙ্গি হামলার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে এনআইএ। আজ তারা মোট ৪টি মামলার তদন্তভার আনুষ্ঠানিক ভাবে হাতে নিয়েছে। আজ নতুন করে কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। তবে এখনও আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা শিবির ছেড়ে ঘরে ফিরতে নারাজ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত