১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪
ফাইল ছবি
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার খাই হাওরে নৌকা বাইচ আয়োজন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় নৌকা বাইচ আয়োজ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়াংর জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান।
আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ধলমৈশা গ্রামের বাসিন্দা, ইংল্যান্ডপ্রবাসী আবুল হোসেন তাঁর নিজ গ্রাম ও হাঁসকুড়ি গ্রামকে সঙ্গে নিয়ে এ আয়োজন করেন। কিন্তু তাঁর এই আয়োজনকে ঘিরে সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই শঙ্কা থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে করা আবেদনপত্রে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান-১ রুজেল আহমদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে নৌকা বাইচ বন্ধ চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।
ইউএনওর কাছে করা আবেদনে তিনি বলেন, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ধলমৈশা গ্রামের দক্ষিণ খাইহাওরে যে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, তা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের অবগত করা হয়নি বা তাদের সঙ্গে কোনো রকমের আলোচনা করা হয়নি।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমনকি আয়োজক পক্ষের লোকজন ফেসবুকে নানাভাবে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন প্যানেল চেয়ারম্যান।
এ অবস্থায় যেকোনো সময় এলাকায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘাতের আশঙ্কা করছেন প্যানেল চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা করে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতাটি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান-১ রুজেল আহমদ বলেন, লন্ডনী সাহেব যে আয়োজন করেছেন, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি আমাদের কাউকে বিষয়টি অবগত করেননি। একজন মানুষ আত্মহত্যা করলে কিংবা একটি বাল্যবিবাহ হলে সারাদিন-রাত আমাকে বিষয়টি সামলাতে হয়। কিন্তু এত বড় একটি বিষয় তিনি বীরগাঁওয়ের অনেক মুরব্বি, আমার পরিষদসহ কাউকেই অবগত করেননি। কোনো সমস্যা হলে আমি কি দায় এড়াতে পারব? তাছাড়া, এই খেলাকে ঘিরে ফেসবুকে নানান কথা ছড়াচ্ছে। হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। একটি সমস্যা হবে ভেবে আবেদন করেছি। এটি আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, পরিষদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। তাঁরা বলেছেন, এই আয়োজনে যদি কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়, এর দায় কী পরিষদ নেবে? আমি না করে দিয়েছি। মূলত আমাদের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ইউএনও ও ওসি সাহেবের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। ইউনিয়নের সবাইকে নিয়ে এর আয়োজন করলে আমার কোনো আপত্তি নেই।
প্রবাসী ও নৌকা বাইচের আয়োজক আবুল হোসেন বলেন, আমি এই আয়োজন দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছি। মূলত গ্রামবাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় নৌকা বাইচের আয়োজন করি। এর আগে কখনো কোনো ঝামেলা হয়নি, এ বছরও হবে না। কে বা কারা কোন বিষয় নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি বা গালাগালি করছে, তা আমার জানা নেই। আমার কোনো লোক এমন কাজ করছে বলে আমি জানি না।
তিনি বলেন, হাঁসকুড়ি, ধলমৈশা, উলারপিঠা, শান্তিপুর ও বাবনগাঁওসহ পাঁচ গ্রামকে নিয়ে এই আয়োজন। আয়োজকরা সবাই পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাই তাঁদের নিয়ে আয়োজন। তাছাড়া, তলা (নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ার স্থান) পশ্চিম বীরগাঁওবাসীরও। দুইটা গ্রাম আলাদা, ইউনিয়নটাও আলাদা। আমি মারামারির জন্য নৌকা বাইচের আয়োজন করি না। আর অভিযোগের বিষয়েও কিছুই জানি না।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমি বিষয়টি অবগত আছি। ওসি সাহেবকে বলেছি ব্যবস্থা নিতে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলী উল্লাহ বলেন, আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। ইউএনও সাহেব আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব।
আপনার মন্তব্য