১৪ মার্চ, ২০২০ ১২:৫৬
আরিফুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম শহরে সরকারি ও ব্যক্তিপর্যায়ের অনুদানে পুকুর সংস্কার করে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীনের নামে ‘সুলতানা সরোবর’ রাখার সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মোবাইল কোর্ট দিয়ে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। গ্রেপ্তার ওই সাংবাদিক অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম।
শুক্রবার মধ্যরাতে ডিসি অফিসের দুই-তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে নিয়ে দরজা ভেঙে তার বাসায় প্রবেশ করে আরিফুলকে গ্রেপ্তার করে। এরপর রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের দণ্ড দেওয়া হয় তাকে।
এ সময় আরিফুলের বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তারা।
সাংবাদিক আরিফুলের স্ত্রী জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে খাওয়া শেষে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় হঠাৎ কে বা কারা দরজা ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে আমার স্বামী ফোনে স্বজনদের বিষয়টি জানান। এক পর্যায়ে দরজা ভেঙে তারা আমার স্বামীকে মারধর শুরু করে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকেও মারতে উদ্যত হয়। পরে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মাহফুজুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ডিসি অফিসের লোকজন মোবাইল কোর্টের জন্য আরিফুলকে নিয়ে গেছে।’
জানা গেছে, কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্প থেকে এই পুকুর সংস্কারের জন্য চাল ও সোলার স্ট্রিট লাইট বরাদ্দের পর কুড়িগ্রাম শহরের একটি পুকুরের নামকরণ করেন ‘সুলতানা সরোবর’। ১৯৭৮ সালে কুড়িগ্রাম শহরে এই পুকুর খনন করে নাম দেওয়া হয় ‘নিউ টাউন পার্ক’। ২০১৯ সালে এই পুকুর খনন ও সংস্কার কাজ করে এর নামকরণ করা হয় জেলা প্রশাসকের নামে।
জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন সরকারি অর্থে একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করার সংবাদ গত বছর বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশ করেন আরিফুল। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে ডিসি সুলতানা পারভীনের অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন তৈরি করেন আরিফুল। এ কারণে আরিফুলের ওপর আরও ক্ষুব্ধ হন তিনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মন্তব্য