মাঠ প্রশাসনের দাবির প্রেক্ষিতে জেলায় জেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যেখানেই নিরাপত্তা প্রয়োজন সেখানেই মোতায়েন জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানানো হয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত কয়েক দিনে সরকারের কাছে নিরাপত্তা জোরদার করতে অনুরোধ জানান ডিসিরা। তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিবি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার উপসচিব হাবীবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় ২২ জেলায় মোট ৫৯ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও পাঁচ জেলায় চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিজিবির সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রতিদিনই ডিসিদের এসব চাহিদাপত্র তদারকি করা হবে। সরকার এসব বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। যেখানেই নিরাপত্তা প্রয়োজন, দেওয়া হবে। এসব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রেলের নিরাপত্তার জন্য প্রতি ৪৫ দিনে আট হাজার ৩২৮ আনসার মোতায়েনের ব্যয় হিসেবে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে ১২ জানুয়ারি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে সাতটি জাদুঘরের জন্য মোট ১২০ জন আনসার চাওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে লালবাগ দুর্গ, মহাস্থানগড় দুর্গ, পাহাড়পুর জাদুঘর, ময়নামতি জাদুঘর, বাগেরহাট জাদুঘর, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর ও রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি জাদুঘর।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বিজিবির টহল নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলায় জেলায় পণ্যবোঝাই ট্রাক এবং যাত্রীবাহী বাসের নিরাপত্তার জন্য বিজিবির গাড়ি বহরের জ্বালানির জন্য ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক অবরোধ কর্মসূচিতে বিএনপিসহ বিশ দলীয় জোটের নেতাকর্মিরা মাঠে না নামলেও তারা চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে বাস-ট্রাক সহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিচ্ছে। ফলে চরম এক নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে আছে দেশ। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের দাবির প্রেক্ষিতে বিজিবি মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আপনার মন্তব্য