১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৮
গত তিন দিনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন প্রায় ৫ হাজার এমপিপ্রার্থী প্রত্যাশী। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিক্রি হবে ফরম। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা ৬ হাজার পেরিয়ে যেতে পারে। অন্য যে কোনো বারের তুলনায় এবার দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনা নেতার সংখ্যা অনেক বেশি। গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ সংখ্যা ছিল আড়াই হাজারের মতো।
আসন প্রতি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সংখ্যা এবার গড়ে ১৯-২০ জন হতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। এ বছর মনোনয়ন ফরমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার। এ বাবদ দলের আয় হতে পারে ১৫-১৬ কোটি টাকা। গত তিন দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ নেতাকর্মী ঢাকা এসেছেন।
মনোনয়ন ফরম বিক্রি গত তিন দিন ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকঢোল, বাদ্য বাজনা শোভাযাত্রাসহ বেশিরভাগ নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে আসেন। অনেকে খোলা পিকআপভ্যানে ব্যান্ডপার্টিসহ আসেন। নেতাকর্মীদের চাপে ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের তালিকায় এবারে সবচেয়ে বড় চমক জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। রোববার দুপুরে তিনি নড়াইল-২ আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এমপি-মন্ত্রীদের পাশাপাশি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের একটা বড় অংশ এবার মনোনয়ন ফরম কিনছেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ী, সাংবাদিক নেতা, চলচ্চিত্র তারকা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক নেতা, সাবেক আমলা, সাবেক খেলোয়াড়, সাবেক সেনা কর্মকর্তারা রয়েছেন। অন্য দলের নেতাদের কয়েকজনও নৌকার মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এর বাইরে রাজনীতিতে একেবারে তরুণ এমন অনেকেও কিনেছেন মনোনয়ন ফরম।
টানা দুই দফা ক্ষমতায় থাকায় এবার আওয়ামী লীগে প্রার্থীজট অনেক বেশি। প্রতি আসনেই ৪-৫ জন সম্ভাব্য এমপিপ্রার্থী রয়েছেন। যারা অনেক আগে থেকেই নিজ নিজ এলাকায় প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ করে আসনে। এসব সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে কোন্দলও রয়েছে। তবে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরুর পর প্রত্যাশী প্রার্থীর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কোনো কোনো আসনে ৩০ জনের বেশি নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র পেলে এমপি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ কারণেই নৌকার মনোনয়ন নিতে এত ভিড়। আওয়ামী লীগের নেতারা চাইছেন, যত বেশি সংখ্যক হোক মনোনয়ন ফরম যাতে বিক্রি হয়। কারণ, মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের অনুসারীদের কারণে পুরো দেশে একটা নির্বাচনী আবহাওয়া সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাঝেও সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ছবি ও ভিডিও দিচ্ছেন। যাতে করে একটা ইতিবাচক নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া মনোনয়ন না পেলে কেউ যাতে বিদ্রোহী প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী না হতে পারে সেদিক বিবেচনা করেও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা কাউকে মনোনয়ন ফরম কিনতে নিরুৎসাহিত করছে না।
এদিকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা বেশিরভাগ নেতাই জানেন যে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা তাদের নেই। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য এটাকে তারা বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন। এ ছাড়া বুধবার সকালে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেবে। সেখানে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। দলীয়প্রধানের সামনে নিজেদের জানান দেওয়ার সুযোগ হিসাবে এটাকে দেখছেন।
বিএনপি ও ঐক্যজোট নির্বাচনে আসায় এবারের নির্বাচন আওয়ামী লীগ মহাজোটগতভাবে অংশ নেবে। এর বাইরেও কয়েকটি মিত্র দলকে কয়েকটি আসন তারা ছেড়ে দেবে। এ সমীকরণে ৫০-৭০টি আসন আওয়ামী লীগকে শরিক ও মিত্রদের ছেড়ে দিতে হবে। বাকি আসনগুলোতে শুধু নিজেদের প্রার্থী দিতে পারবে আওয়ামী লীগ। সে ক্ষেত্রে অনেকে হেভিওয়েট প্রার্থীই শেষপর্যন্ত বাদ পড়তে পারেন। কপাল পুড়তে পারে বেশ কয়েকজন এমপি-মন্ত্রীর। কেননা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তুলনায় তরী যে ছোট। ঠাঁই সেখানে কয়জনেরই বা হবে।
আপনার মন্তব্য