নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জুলাই, ২০২৪ ০৩:২১

জাফর ইকবালের বই ও মন্তব্য নিয়ে যা বলছেন তসলিমা নাসরিন

কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে গত রোববার মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ ক্যাম্পাসে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগান ধরেছিল আন্দোলনকারীদের একাংশ। এনিয়ে সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে।

শিক্ষার্থীদের নিজেদের ‘রাজাকার’ দাবির পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর না যাওয়ার ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরুর পর ‘কোটা’ শিরোনামের নিবন্ধ লিখতে বসেছিলেন জনপ্রিয় এই লেখক। কিন্তু সেটা আর সমাপ্ত করা হয়নি। তবে তাঁর অসমাপ্ত সেই নিবন্ধের একটা অংশ নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভাইরাল ওই অংশে মুহম্মদ জাফর ইকবাল লেখেন: ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমি মনে হয়, আর কোনো দিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইব না। ছাত্রছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে, এরাই হয়তো সেই ‘রাজাকার’। আর যে কয়দিন বেঁচে আছি, আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাই তো জীবন, সেই জীবনে আবার কেন নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে?’

এরপর রকমারি ডটকমসহ কিছু বই বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই বিক্রি না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। শুদ্ধস্বর ও শ্রাবণ প্রকাশনী এর বিপরীতে তাঁর বই প্রচার ও বিক্রির কথা জানিয়েছে ফেসবুকে।

মুহম্মদ জাফর ইকবালকে নিয়ে আলোচনার এই সময়ে কথা বলেছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক পোস্টে তসলিমা নাসরিন লেখেন:

যেভাবে মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে সমস্ত অনলাইন বইয়ের দোকান থেকে, যেভাবে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর না প্রবেশ করার জন্য, তাতে মনে হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা নিজেদের বাক স্বাধীনতা চাইলেও অন্যের বাক স্বাধীনতা একেবারেই চায় না।

যেহেতু মুহম্মদ জাফর ইকবাল রাজাকারদের মুখ দেখতে চান না, সুতরাং তাঁকে স্বাভাবিক জীবন আর যাপন করতে দেওয়া হবে না।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল ছাত্রদের রাজাকার বলছেন না। যে ছাত্ররা নিজেদের রাজাকার বলে মিছিল করেছে, তাদের রাজাকার বলেছেন।

ছাত্ররা গর্ব করে নিজেদের রাজাকার বলেছে, নাকি তারা প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে শ্লেষ করে নিজেদের রাজাকার বলেছে- তা এখনও অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়। যদি নিজেদের রাজাকার পরিচয় নিয়ে গর্ব হয় কারও, তাহলে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ মনে হচ্ছে চলে গেছে বাক স্বাধীনতাবিরোধী অশুভ শক্তির হাতে। হয়তো ছাত্রদের মুখোশ পরে আছে কয়েক হাজার গোলাম আযম।

কোটা সংস্কারের দরকার নিশ্চয়ই আছে। ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে কোটা সংস্কারের আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারে, এবং সফল হতে পারে।

কয়েক বছর আগে এক জিহাদি ছাত্র মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ধারালো ছুরি দিয়ে খুন করতে চেয়েছিল। অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন শিক্ষক। যদি কোটা সংস্কার আন্দোলনে সেই খুনি জিহাদি ছাত্রের সমর্থকদের সংখ্যাই বেশি হয়, তবে এই আন্দোলন শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের সমর্থন হারাবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত