০৩ জুন, ২০১৬ ০২:০৩
দেখলে মন হবে এটি কোনো মৎস্য খামার। কে বলবে এটি একটি সরকারী কলেজের মাঠ। অথচ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের মাঠের এখন এমনই দশা। খেলাধুলার পরিবর্তে এই মাঠে পানি আটকিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে।
জানায়, সম্প্রতি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজের একমাত্র মাঠটিতে লাল নিশান টাঙ্গিয়ে বাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষণ করে মাছ চাষ শুরু করে। এতে কলেজের কিছু প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কলেজ কর্তৃক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কলেজের মাঠকে মাছের খামার করে তোলায় ফেসবুকে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তাঁরা।
এদিকে, ফেসবুকে লেখালেখির কারণে কলেজটির প্রাক্তন ছাত্র রিপন জামানকে অধ্যক্ষ অপমান করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এ অভিযোগ মোটেও সঠিক নয় দাবি করে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন,‘ রিপন নামের একজন আমার সাথে কোন ধরনের কথা না বলেই সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। মিথ্যা-ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে মনগড়া লেখালেখি করছেন।'
অধ্যক্ষ আরো বলেন, ‘কলেজের মাঠে মাছ চাষ করা হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় কলেজে আসবেন তাই মাঠে যাতে কেউ গরু-ছাগল চড়াতে না পারে তাই লাল নিশান টানানো হয়েছে। মাছ চাষের কোন সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। বিষয়টির খোঁজ নেয়া হবে ।’
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র রিপন জামান গত ২১ মে তার ফেসবুকে লিখেন, ‘লীজ নিয়ে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ মাঠে পানি আটকিয়ে- লাল নিশান টানিয়ে মাছচাষ। কলেজ তথা এলাকার একমাত্র খেলার মাঠে এই ব্যবস্থা কেন ? সুনামগঞ্জে কি মাছের খুব অভাব ? খেলার মাঠ লীজ নিয়ে কি মাছচাষ করা যায় ? তার এই পোস্টের পর অনেক প্রাক্তন ছাত্র নানা মন্তব্য করেছেন।
কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সুদীপ্ত রায় গত ২৯ মে লিখেন,‘ শিক্ষার মান উন্নয়নে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যায়ামাগার বা খেলার মাঠের প্রয়োজন খুব বেশি। সুনামগঞ্জের সন্তান হিসাবে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ার সুযোগ হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ। শিক্ষার মান ও বিশাল সীমানা ঘেরা এই দুই প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জবাসীর গর্ব। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সামান্যতম ক্ষতি বা অপরিকল্পিত পরিবর্তন আমাদের শরীরে গ্যাংগ্রিনের মতো ক্ষত সৃষ্টি করে। আমরা যখন স্কুলে পড়তাম ক্লাস ফোর কি ফাইভের কথা তখন কিছু বালু/পাথর ব্যাবসায়ী স্কুলের একমাত্র খেলার মাঠটি দখল করে নিয়েছিলো তাদের বালু পাথরের পাহাড় দিয়ে। স্কুলের কিছু প্রাক্তন ছাত্র ও আমরা সবাই মিলে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে মাঠটিতে স্কুলের কর্তৃত্ব পুনরায় স্থাপন করি। এখন পর্যন্ত খেলার মাঠটি খেলার মাঠ হিসেবেই আছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্কুল মাঠে মাছ চাষ অথবা কোনও ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে নাই।
মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষ আপনাদের উপর পূর্ণ সম্মান রেখে বলতে চাই আপনি বা আপনারা যদি মনে করেন যে কলেজের উন্নয়নের জন্য এতে মাছ চাষ করেছেন, তাহলে আমরা বলতে চাই- মাছ চাষ করুন ভালো কথা কলেজ মাঠে নয় কলেজের পুকুরে চাষ করুন। কলেজের উন্নয়নের জন্য কলেজ মাঠে মাছ চাষের কি প্রয়োজন! কোনও উন্নয়নের প্রয়োজনে আপনি প্রস্তাব রাখতে পারেন সংসদ সদস্য মহোদয়, জেলা প্রশাসনের প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাছে, কারণ আমার জানামতে তিনারাও ওই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। আপনাদের কাছে অনুরোধ, মাঠটিকে খেলার মাঠ হিসেবেই রাখুন শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করুক নেশার জগতে বা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে হারিয়ে যেনো না যায় যুব সমাজ।’
সূত্র : দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর
আপনার মন্তব্য