Advertise

দেবজ্যোতি দেবু

০৫ মে, ২০২০ ১৮:৫৪

অপপ্রচারকারীদের পাত্তা না দিলে কী এমন ক্ষতি হতো বিদ্যানন্দের?

২০১৩ সাল থেকেই 'বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন' নামক মানবিক প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সাহায্যার্থে তাদের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এতদিন কারো কোন সমস্যা না থাকলেও বিপত্তিটা ঘটলো ২০২০ সালে এসে। ৭ বছর পর! কেন? কারণ, করোনাকালিন দেশ-বিদেশের লাখো মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন যে ত্রাণ বণ্টন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাতে পেটে আঘাত পড়েছে কিছু সুবিধালোভী ধর্ম ব্যবসায়ীর। কারণ, অনেকেই এই রমজান মাসে যাকাতের টাকার অংশও এই ফান্ডে দান করছেন সুবিধাবঞ্চিতদের সাহায্যার্থে। এরকম চলতে থাকলে ঐসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের পেটেতো আঘাত লাগবেই! ফলে অতি পুরাতন সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হলো এই ফাউন্ডেশনকে।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগতভাবে আমি বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রধান কিশোর কুমার দাশের বর্তমান সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে পারছি না বলে দুঃখিত। উনাদের দেয়া বক্তব্যের কিছু অংশ 'সাম্প্রদায়িক' বলে মনে হয়েছে। ফাউন্ডেশনের নামকরণ হিন্দু কেউ করলো নাকি মুসলিম কেউ করলো সেই বিষয়টা নিয়ে কোনদিনই কেউ মাথা ঘামায়নি, এমনকি ভবিষ্যতেও ঘামাতো বলে মনে হয় না। একটা সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারকে কাউন্টার দিতে আরেকটা সাম্প্রদায়িক বক্তব্য উনাদের ভাল কার্যক্রমকেই শুধু বিতর্কিত করেনি, সেই সাথে জিতিয়ে দিয়েছে অপপ্রচার শুরু করা সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকেও। দুঃখিত বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন, আপনাদের এমন স্ট্যান্ড আমার পছন্দ হয়নি।

বিদ্যানন্দকে বিতর্কিত করতে একটা গোষ্ঠী ঠিক সেই কাজটাই করলো যে কাজ করে গণজাগরণ মঞ্চকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। এবং তখন গণজাগরণ মঞ্চের অনেকেই নিজেদের ইমেজ বাঁচাতে যেভাবে নিজেদের আস্তিক পরিচয়টাকে সবার সামনে নিয়ে আসতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, আজ বিদ্যানন্দও ঠিক একই কাজই করেছে। সেই সময়ে যেমন আস্তিক পরিচয়টা শেষ রক্ষা করতে পারেনি, আজও বিদ্যানন্দের এমন বক্তব্য শেষ রক্ষা করতে পারবে না বলেই মনে করছি। তখনও এর প্রতিবাদ করেছিলাম, আজও নিজের অপছন্দের কথাটা জানিয়ে রাখলাম।

কিশোর কুমার দাশ কিংবা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন যদি এসব অপপ্রচারে পাত্তা না দিয়ে নিজেদের কাজে মনযোগী থাকতো, তাহলে ক্ষতিটা কী হতো? অনুদান কমে যেত? দাতারা বিদ্যানন্দের উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতো? তাতেই বা কী এমন ক্ষতি হয়ে যেত ফাউন্ডেশনের? ফাউন্ডেশনের টাকা দিয়েতো কিশোর কিংবা উনার ফাউন্ডেশনের কেউ সংসার চালান না। তাহলে? অনুদান যা আসবে তা দিয়েই কাজ করবেন। অনুদান আসা বন্ধ হয়ে গেলে কাজ বন্ধ করে দিবেন। তাতে সমস্যা কী? আর সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে গিয়ে যে দান করার মানুষের অভাব নেই এই দেশে, গত ৭টি বছরইতো তার প্রমাণ। তাহলে কীসের ভয় ছিল এই ফাউন্ডেশনের?

আমাদের এমন ভীতু মানসিকতা এবং অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পনার জন্যই কালো শক্তিরা বারবার জয়ী হয় আর আমরা 'এই দেশের কিছু হবে না' বলে বলে দেশকে গালি দেই। সেই সাথে অসম্মান করি লাখ লাখ সুন্দর মনের মানুষদের যারা সত্যিই চান এই দেশ এবং দেশের মানুষ সুন্দর থাকুক, সুন্দরভাবে বাঁচুক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত