আজ রবিবার, , ১৯ আগস্ট ২০১৮ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

০৮ মে, ২০১৮ ০২:০৬

ঐ মহামানব আসে

আজ পঁচিশে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মদিন। বাংলা ১২৬৮ সনের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে তার জন্ম হয়েছিল। এরপর ৮০ বছরের আয়ুষ্কালে নিজের অজস্র সৃষ্টিতে বাংলা ও বাঙালিকে তিনি বিশ্বমঞ্চে দিয়েছেন নতুনতর পরিচয়। নিজেও গড়ে নিয়েছেন বাঙালির মানসে ও বাংলাদেশে শ্রদ্ধার অটল অধিষ্ঠান; হয়ে উঠেছেন চিরকালীন প্রাসঙ্গিকতার নাম।

কবি, শিল্পী, জমিদার, সমাজ সংস্কারক, ভাবুক-দার্শনিক, শিক্ষাবিদ এমনতর অজস্র অভিধায় রবীন্দ্রনাথকে অভিহিত করা যায়। বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব তিনি। বর্ণিল তার কর্ম ও সৃষ্টিগুলোও। গত শতকের শুরুতে সাহিত্যে নোবেল পেয়ে তিনি বাংলা ভাষার প্রতি বিশ্ববাসীর সমীহর সূচনা ঘটিয়েছেন। পাতিসর, শিলাইদহ ও শাহজাদপুরে নিজের সৃষ্টিগুলোর মাধ্যমে সেদিনের পূর্ববঙ্গকে তিনি সবার কাছে পরিচিত করিয়েছেন। গল্পে, কবিতায়, উপন্যাসে, নাটকে নানা চরিত্রে তিনি বাঙালি ও বাঙালিয়ানাকে বাইরের মানুষের কাছে মূর্ত করেছেন। আইনস্টাইন, মহাত্মা গান্ধীসহ সমকালীন ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সংলাপ ও বিতর্কের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বাঙালির সহজিয়া বিশ্ববীক্ষাকে বহির্বিশ্বে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ধর্ম, দর্শন, উন্নয়ন ও যন্ত্রায়নের মতো অপরিহার্য বিষয়গুলোয় বাঙালি ও ভারতীয়দের ভাবনাকে আকার দিতে ভূমিকা রেখেছেন।

দীর্ঘ কর্মময় জীবনে রবীন্দ্রনাথের অবদানগুলোর সবিস্তার উল্লেখের কাজটি কষ্ট ও শ্রমসাধ্য। তবে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনে রবীন্দ্রনাথকে অপরিহার্য ও অলঙ্ঘ্য করে তুলতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে তার অফুরান লেখনী। তার বহুধাবিস্তৃত রচনার ফল্গুধারায় স্নাত হয়েছে আমাদের আবেগ, অভিজ্ঞতা, মনন ও দর্শন। গানে-গীতে তার সৃষ্টি ও কীর্তিগুলো সেদিনের অদেখা পৃথিবীকে উপনিবেশ বাংলা ও ভারতের দোরগোড়ায় এনে দিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের সুবাদেই বিশ্বসাহিত্য ও বিশ্বসংগীতের সঙ্গে বাংলা ও ভারতের মানুষের পরিচয় জোরদার হয়। এভাবেই বর্ণময় হয়ে ওঠে আমাদের অভিজ্ঞতা, রুচি ও প্রকাশভঙ্গি। রবীন্দ্রনাথের চিরকালীন প্রাসঙ্গিকতার এটাই বড় উৎস। জীবনের আনন্দ-বিষাদ, অবকাশ-বিলাস, প্রার্থনা-প্রতীক্ষার নানামাত্রিক প্রকাশের মাধ্যমে তিনি আমাদের চিনিয়েছেন আশ্রয়ের অগণন ঠিকানা: চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির, জ্ঞান যেথা মুক্ত যেথা গৃহের প্রাচীর, আপন অঙ্গনতলে দিবস শর্ব্বরী, বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি।

কূপমণ্ডূকতা ঝেড়ে উদার বিশ্বায়নের এ স্লোগানেই স্পষ্ট রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত