শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ ইং

অনলাইন প্রতিবেদক

০৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৯

কে এই ‘জিম্মি’?

রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের হোলি আর্টিসান বেকারিতে শুক্রবার রাতের সন্ত্রাসী হামলা থেকে উদ্ধার পাওয়া ১৩ জিম্মির একজনকে ঘিরে  প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর আগে ও পরে পার্শ্ববর্তী একটি ভবন থেকে কিছু ভিডিও ধারণ করেন ডুকিয়ু হুয়াং নামের এক কোরিয়ান নাগরিক। তার ধারণ করা ও ফেসবুকে প্রকাশ করা কয়েকটি ভিডিওতে ওই জিম্মির গতিবিধি সন্দেহজনক বলে মনে হয় অনেকেরই।

ফেসবুকে অনেকেই উদ্ধার পাওয়া এ জিম্মির পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির খন্ডকালীন একজন শিক্ষক এবং বেসিক ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। তার নাম হাসনাত আর. করিম। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে, শিক্ষক তালিকায় হাসনান আর. করিমের নাম দেখা গেছে।

ফেসবুকে ভিডিওচিত্র থেকে নেয়া অনেক ছবির সাথে তার ফেসবুক থেকে সংগৃহিত ছবিও আপলোড করছেন অনেকে।

শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসী হামলার পর স্বপরিবারে আর্টিসান বেকারিতে আটকা পড়লে হাসনাত তাঁর চাচার কাছে ফোন করে বলেছিলেন, “পুলিশ গুলি করলে তাদের মেরে ফেলা হবে।” রাত ১২টার পর তার মোবাইল ফোনটির সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

শনিবার সকাল ৭টা ৪২ মিনিটে আপলোড করা হুয়াং এর প্রথম ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ন্যাড়া মাথার এক ভদ্রলোক ক্যাফে আর্টিসানের পিছনের পোর্চের দরজায় দাড়িয়ে, তার পাশে অস্ত্রধারীরা।

এরপর সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে আপলোড করা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‌'জিম্মি' এ ভদ্রলোক ৪ মহিলা ও এক শিশুসহ পিছনের পোর্চ দিয়ে হোলি আর্টিসান বেকারি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন, যে সম্পর্কে পরবর্তীতে বলা হয় যে, কোরআন শরীফ পড়তে পারায় তাদেরকে মুক্তি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

এদিকে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়া অন্য আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, একই ব্যক্তি আর্টিসানের দোতলার বারান্দায় সিগারেট টানতে টানতে হাটছেন এবং তার পিছনে অস্ত্রধারী দুই সন্ত্রাসী।

ফেসবুকে অনেকেই এই ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজক আখ্যা দিয়ে তার অবস্থানের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

তবে গত শনিবার ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত সৈয়দ জাইন আল মাহমুদের এক প্রতিবেদন থেকে হাসনাতের পরিবারের বরাতে জানা যায়, শহরের জঞ্জাল থেকে দূরে সরতে হাসনাত করিম গুলশানের এই অভিজাত ক্যাফে পছন্দ করতেন। এই রেস্তোরাঁর স্প্যানিশ খাবার তার পছন্দ ছিলো। আর শুক্রবার তিনি তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন পালনে গিয়েছিলেন।

এই প্রতিবেদনে হাসনাতের বাবার বরাত দিয়ে বলা হয়, মুক্তির পর হাসনাত করিম তার পিতাকে জানিয়েছিলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বয়স ২০ বছরের নীচে, তারা বেছে বেছে বিদেশি ও অমুসলিমদের হত্যা করছিলো। এছাড়াও যারা কোরআন তেলাওয়াত করতে পেরেছে, তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেছে এবং অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছিলো। পরে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত