শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ ইং

সিলেটটুডে ডেস্ক

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:৫৭

বিপ্লবের আইডি হ্যাক হয়েছিল: ভোলার পুলিশ সুপার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘ধর্ম অবমাননার’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ভোলায় বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মুসল্লিদের একটি সমাবেশে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। তবে যার ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে এতকিছু সেই বিপ্লব চন্দ্র শুভ’র ফেসবুক আইডিটি হ্যাক হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার।   

সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, ‘বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। আমরা হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আটক করেছি।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে এসপি বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে গত রাতে স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলছে, আজকের প্রোগ্রাম হবে না। কিন্তু সকাল থেকে আমাদের কাছে খবর আসে, সেখানে মাইকিং হচ্ছে এবং স্টেজ বানানো হচ্ছে। সেখানে গিয়ে আমরা উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি নিজে সেখানে বক্তব্য দিয়েছি। তারা সবাই আমার বক্তব্য শুনেছে। যখন আমি স্টেজ থেকে নেমে আসি, তখন এক দল উত্তেজিত জনতা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা আত্মরক্ষার্থে একটি রুমে গিয়ে আশ্রয় নিই।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যখন তারা আমাদের রুমের জানালা ভেঙে ফেলে, তখন আমরা প্রথমে শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ি। এতে কাজ না হওয়ায় ওপরের দিকে গুলি চালানো হয়। আমার জানামতে, একজন পুলিশ সদস্য বুকে গুলি লেগে গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা আহত অবস্থায় যাদের হাসপাতালে পাঠিয়েছি, তাদের মধ্যে তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে আরও নিহত থাকতে পারে, সেটা আমাদের কাছে তথ্য নেই।’

উল্লেখ্য, আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বোরহানউদ্দিন হাই স্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত ‘তৌহিদি জনতা’র একটি সমাবেশে এ পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে চার জন নিহত হন। নিহতরা হলেন, মাহফুজুর রহমান পাটোয়ারী (২৩), মিজান (৩০), মাহবুর রহমান (৩০) ও শাহিন (২৫)। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পুরো পরিচয় জানা যায়নি। তবে আহতদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘ধর্ম অবমাননার’ পোস্ট করার অভিযোগে ‌বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক ব্যক্তির বিচারের দাবিতে আজ ঈদগাহ মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ‘তৌহিদি জনতা’। এ সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি দেওয়ার আগেই তারা মাইকিং করে। পরে সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি না দিলেও সকাল নয়টা থেকে লোকজন মাঠে জড়ো হতে থাকে। মিছিল করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান শুরু করেন আয়োজকেরা। পরে পুলিশ ‘বাটামারা পীর সাহেব’ মাওলানা মহিবুল্লাহকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং তাকে ঈদগাহ জামে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যান। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে, মাওলানা মহিবুল্লাহকে পুলিশ আটক করেছে। এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন।

পুলিশের দাবি, উত্তেজিত লোকজন পুলিশের ওপর হামলা শুরু করলে তারা গুলি করতে বাধ্য হয়।

অভিযোগ উঠেছে, গত শুক্রবার বিকেলে বিপ্লব চন্দ্র শুভর নিজের ছবি সংবলিত ফেসবুক আইডি থেকে ‘ধর্ম অবমাননার’ পোস্ট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে ম্যাসেজ পাঠানো হয়। যাদের ম্যাসেজে পাঠানো হয় তারা ম্যাসেজটি স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে দিলে লোকজন প্রতিবাদ জানানো শুরু করে। এ নিয়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে কয়েক দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়। এরই ফলশ্রুতিতে ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত