আজ বুধবার, , ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:১২

রাজনগরের আগুনে দগ্ধ হয়ে মা-বোনকে হারানো মুন্না শংকামুক্ত

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আগুনে দগ্ধ হয়ে মা-বোন কে হারানো মুন্নার অবস্থা শংকামুক্ত বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন মুন্নার মামা সারোওয়ার জাহান।

সদ্য বাবা হারানো মুন্না মিয়া গত রাতে নিজ ঘরে মা-বোনের সাথে আগুনে দগ্ধ হন। আগুনে দগ্ধ হয়ে মা-বোন মারা গেলেও বেচে যান মুন্না মিয়া। পরে থাকে আশংকাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ঢামেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন মুন্না।

মুন্নার সর্বশেষ অবস্থা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে জানিয়েছেন মুন্নার শয্যা পাশে থাকা মামা সারোওয়ার জাহান। তিনি মুঠোফোনে জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মুন্না আশংকা মুক্ত। সদ্য বাবা হারানো মুন্না এখনো জানেনা তার মা-বোন বেচে নেই। তিনি মুন্নার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ছেয়েছেন। আগুনে দগ্ধ হয়ে মুন্নার মা-বোনের মৃত্যুতে মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে চলছে শোকের মাতন।

মুন্না মিয়া মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মৃত ওয়াছির মিয়ার সন্তান। মুন্নার ৩ বোনের মধ্যে বড় দুই বোন বিবাহিত। আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত হওয়া বোন এবং মা কে নিয়েই ছিল তার সংসার। মুন্না মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের বিবিএস এর ছাত্র।

কিছু দিন আগেই বাবা ওয়াছির মিয়াকে হারিয়েছেন মুন্না। বাবাকে হারানোর সুখ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই একই সাথে আগুনে দগ্ধ হয়ে মা এবং বোনকে হারিয়ে কয়েক ঘন্টা যাবত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন মুন্না নিজেও।

রাজনগর থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাজনগর সদর ইউনিয়ন ভোজবল গ্রামের মৃত ওয়াছির মিয়ার বাড়িতে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে ফ্রিজের গ্যাস ব্লাস্ট হয়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহত হন মা রোকেয়া বেগম (৫৫) এবং বোন শাহিনা বেগম (২৪)। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওয়াছির মিয়ার ছেলে মুন্না মিয়া কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জেলাজুড়ে চলছে শোকের মাতন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশে পাশাপাশি মুন্নার আরোগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা করছেন জেলাবাসী।

মুন্নার একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে আগুনে দগ্ধ হবার ২ ঘন্টা পুর্বে মুন্না লেখেন "সকাল ৬ টায় ঘুম থেকে উঠেছিলাম... . এখনো ৭ মিনিট বাকি ১২ টা বাজতে, আজকে দিন অনেক লম্বা লাগছে"।

হয়ত অবচেতন মনে মুন্না বুঝতে পেরেছিলেন বাবাকে হারানো শোকের মিছিল লম্বা হয়ে নুতুন নাম যুক্ত হচ্ছে।

সেখানে সাদিয়া জান্নাত নামে একজন লিখেছেন "ভাবতেও পারিনি এতো বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটবে। তোমার মা আর বোন জান্নাতবাসী হোক আর তুমি যেন জলদি সুস্থ হয়ে ওঠো এটাই প্রার্থনা করছি। আল্লাহ পরম করুনাময় ও দয়ালু। উনি নিশ্চই সহায় হবেন।'

সবুজ দেব নামের একজন লিখেছেন, খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আয় ভাই। এটাই ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত