বুধবার, , ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ ইং

হৃদয় দাশ শুভ, শ্রীমঙ্গল

০৮ জানুয়ারী, ২০১৯ ১৫:৫১

নিজেরাই ঝুঁকিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা

আশির দশকে নির্মিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পুরাতন দোতলা ভবনের বিভিন্ন স্থানে বিপদজনক ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনটি ধসে পড়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ৪০ বছরেও এখানে উল্লেখযোগ্য কোন সংস্কার কাজ করা হয় নি।

সোমবার (৭ জানুয়ারি) সরেজমিন শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিজেরা অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলায় বিপন্ন মানুষকে দুর্যোগমুক্ত করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও এখন তারা সবাই আতঙ্কে সময় পার করছেন।

ফায়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, ভবনের ছাদ, কার্নিশসহ বিভিন্ন অংশে বিপদজনক ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে তাদের জীবনযাপন এখনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কর্মচারী ও অন্যান্য ফায়ারম্যানরা জানান, ভবনটির দুরাবস্থার কারণে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশংকায় আতঙ্কগ্রস্ত থাকেন সবসময়। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় অর্ধশতাব্দী আগের নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির নিচতলায় রয়েছে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তার অফিস কক্ষসহ ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি রাখার জায়গা এবং দ্বিতীয় তলায় রয়েছে কর্মকর্তাদের থাকার জায়গা এবং স্টাফদের ব্যারাক। এখানে নিয়মিতভাবে বসবাস করেন ২৩ জন মানুষ।

ব্যারাকে বসবাসকারীদের মধ্যে রয়েছেন ১ জন স্টেশন অফিসার, ১৫ জন ফায়ারম্যান, ২ জন টিম লিডার, ২ জন গাড়ি চালক, ১ জন বাবুর্চি ও ১ জন ঝাড়ুদার।

এসব রুমগুলোতে বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ও ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং দ্বিতীয় তলায় অফিসার কোয়ার্টারেরও একই অবস্থা। ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে গেছে বিভিন্ন জায়গায়। শুধু তাই নয় গাড়ি রাখার জায়গায় ভীমের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ভেঙে পড়ে রড বের হয়ে আছে।

তাছাড়া গত বছরের জানুয়ারিতে ভূমিকম্পে ভবনটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পের ফলে ভবনের জানলার গ্রিলগুলো বেঁকে গিয়েছে। ব্যবহারের জন্য যে বাথরুমগুলো রয়েছে সেগুলেোর অবস্থাও করুন। বাথরুমের দরজা ভাঙা, কমেট ব্যবহার অনুপযোগী এবং ফ্লাশগুলোও নষ্ট।

ড্রাইভার অরুণ কুমার সিংহ জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে ভূমিকম্পের সময় আমার গায়ে বিল্ডিংয়ের পলেস্তারা খসে পড়ে এতে আমি আহতও হই। আমরা মাঝে মধ্যে নিজেরা জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করি। তবে ভবনটি ড্যাম্প হয়ে যাওয়াও সেই মেরামতগুলি দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

যেকোন সময় এ ভবনটি ধসে পড়ে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এই ভবনের বসবাসকারী ফায়ারম্যানসহ অফিস ভবনে অবস্থানকারী কর্মকর্তাদের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে কর্মরত ফায়ারম্যানরা জানান, দুর্যোগ ও বিপন্ন মানুষকে উদ্ধার করতে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি আমরা। আর আমাদের জীবনই এখন ঝুঁকিপূর্ণ।

শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আজিজুল হক রাজন বলেন, ভবনটির ভগ্নদশা সম্পর্কে আমরা কয়েকবার লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু এই ভবনের মেরামত কিংবা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় নি। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা ভবনটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিয় কুমার সাহা সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আসলে আমাদের কাজ হচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মত। সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হয় ৷ আর যেহেতু এটা মেরামতের বিষয় তাই আগে মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় হলে আমরা পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত