মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯ ইং

সদরুল আমিন, ছাতক

০৫ মে, ২০১৯ ০০:৪২

লোকবল সংকটে ব্যাহত ছাতকের কৈতক হাসপাতালের কার্যক্রম

ওষুধ ও লোকবল সঙ্কটের কারণে ব্যাহত হচ্ছেো সুনামগঞ্জের ছাতকের ২০ শয্যা বিশিষ্ট কৈতক হাসপাতালের কার্যক্রম। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ছাতক, দোয়ারাবাজার ও দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষ। এ হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছেন ৩ জন। নার্স ৯ জনের মধ্যে ১ জন ছুটিতে ও ১জন রয়েছেন ডেপুটেশনে। ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও এখানে শয্যা রয়েছে ১২ টি।

উপজেলার জনবহুল এলাকায় এ হাসপাতালটির অবস্থান থাকায় এখানে রোগীর সংখ্যা উপজেলা সদর হাসপাতালের চেয়েও বেশি। এ ছাড়াও যাতায়াতের সুবিধা থাকায় দক্ষিন সুনামগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার রোগীরাও আসছেন এ হাসপাতালে।

সরেজমিনে হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, রোগী ভর্তি আছেন ৪ জন। নার্স একজন ডিউটিতে থাকলেও কোন ডাক্তার ডিউটিতে পাওয়া যায়নি। রোগীর জরুরী প্রয়োজনে ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আসতে হয় বলে জানান ভর্তি রোগীরা। হাসপাতালে ভর্তি পিটাপই গ্রামের জামাল মিয়া (৩৫), আগিজাল গ্রামের রোকেয়া বেগম (৬৫) ও ভর্তি রোগী খাড়ারাই গ্রামের সিদ্দিকা (৭) এবং মনিরজ্ঞাতি গ্রামের সারোয়ার (৩) এর সাথে থাকা তাদের আত্মীয়রা জানান, হাসপাতাল থেকে ভর্তি রোগীদের কোন ওষুধ দেয়া হয় না। সব ওষুধ বাহির থেকে কিনে আনতে হয়। রোগীদের হাসপাতাল থেকে শুধু দু’বেলা খাবার দেয়া হয়। ভর্তি রোগীদের ওষুধ দেয়া হয় না বলে ডিউটিরত নার্স জেরী রুম স্বীকার করেছেন।

২০০৭ সালে কৈতক হাসপাতাল ২০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। কিন্তু ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কোন কার্যক্রম এখানে নেই। এ হাসপাতালের কয়েকজন নার্সও রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ডাক্তারের চেম্বার থেকে নার্সের চেম্বারে রোগীর সংখ্যাই বেশি দেখতে পাওয়া যায়।

কৈতক হাসপাতালে ডা. মোজাহারুল ইসলাম, ডা. সাইদুর রহমান ও ডা. আবু সালেহীন খাঁন দায়িত্বে রয়েছেন।

কৃষ্ণা রানী, জেরী রুরাম, আয়েশা বেগম, আমেনা নাহিদ, স্বপ্না বেগম, ফয়জুন নেছা, মনোয়ারা বেগমসহ নার্স রয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে ফয়জুন নেছা ছুটিতে ও ১ জন ডেপুটেশনে রয়েছেন। হাসপাতালে ক্লার্কের পদ ও নাইট গার্ডের পদ শূন্য রয়েছে। ওয়ার্ডবয় ৪ জনের মধ্যে আছেন ২ জন। সুইপার ৪ জনের মধ্যে ১ জন থাকলেও প্রয়োজনে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন। এক্সরে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান নেই। জেনারেটর থাকলেও তেল খরচের জন্য জেনারেটর ব্যবহার করা হয়নি। নেই এ্যাম্বুলেন্স।

এলাকাবাসীর দাবী প্রয়োজনীয় লোকবলসহ হাসপাতালটি ৩০ শয্যায় উন্নিত করা হলে এলাকাবাসীর চিকিৎসা সেবা পেতে সহজলভ্য হবে।

ডিউটির সময়ে চেম্বারে ডাক্তার ও নার্সরা রোগী দেখার বিষয়টি অস্বীকার করে হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. মোজাহারুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন হাসপাতালের বর্হিবিভাগে ১ থেকে দেড়'শ রোগীর ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয়। মাসে এ হাসপাতালে সন্তান প্রসব করানো হয় প্রায় ২শ রোগীর। হাসপাতালে ইমার্জেন্সি বিভাগ থাকলেও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার নেই। রোগীর চেয়ে ওষুধের বরাদ্ধ এখানে অনেক কম। কাজেই রোগীদেরকে বাহির থেকে ওষুধ কিনে আনতে হয়।

হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ অনকল ডাক্তারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ডিউটির পর বিকেলে চেম্বারে ডাক্তাররা রোগী দেখেন। এবং দু’একজন নার্সও তাদের বাসায় বসে রোগী দেখেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত