সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ মে, ২০১৯ ১৮:৫৫

সিলেটের ২৪ ট্রাভেল এজেন্সিকে পৌনে ৫ লাখ টাকা জরিমানা

সোমবার দিনভর সিলেটের ট্রাভেল এজেন্সিগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ২৪টি ট্রাভেল এজেন্সিকে পৌনে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ৮জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সিলেটের ৬ যুবক নিহতের পর মানবপাচারের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। ট্রাভেল এজেন্সির নামে অবৈধভাবে বিদেশ পাঠানোর ব্যবসা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে সিলেট জেলা প্রশাসন। সোমবার ৫ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫টি টিম গঠন করে অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়।

অভিযানে ২৪ টি ট্রাভেলস এজেন্সি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও মোট ৪ লাখ ৭৫ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড শপিং সিটি থেকে ৩ জন মানব পাচারকারী আটক করা হয় এবং তাদেরকে একমাসের কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল চৌধুরী।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ইউসিএস এ্যাডুকেশনের হীরা, রিচ রিল্যাশন গ্রুপের মাহবুব এবং জাকির এডুক্যাশনের কর্মচারী।

আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যাট ইরতিজা হাসান। অভিযানে আবুসাইদ এন্টাপ্রাইজকে ত্রিশ হাজার, ট্রাভেল টাইমকে পঁচিশ হাজার টাকা, জিলানী এয়ার ইন্টারন্যাশনালকে পাঁচ হাজার, মিরাজ এয়ার ইন্টারন্যাশনালকে বিশ হাজার, জে স্কয়ার কনসালটেন্সিকে বিশ হাজার, রেন্জার ইন্টারন্যাশলকে বিশ হাজার ও নিউ জান্নাত ট্রাভেলসকে ত্রিশ হাজার এবং ট্রাভেলস কর্মচারী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে  পনের  দিনের ও নজমুল ইসলাম খানকে দশদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের নেতৃত্বে উপশহর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রোজভিউ কমপ্লেক্সের আবিদ ওভারসিজকে ২০ হাজার, আসসালাম হজ্জ এবং ওমরা (প্যারাডাইস) ১৫ হাজার, আলকেফা ২০ হাজার, খাজা এয়ার ইন্টান্যাশনাল সর্ভিসকে ২০ হাজার, হোয়াইট ট্রাভেলস থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

রসঙ্গত, ৯ মে বৃহস্পতিবার দালালদের মাধ্যমে সাগর পথে ইতালি প্রবেশ করতে গিয়ে ট্রলারডুবিতে প্রাণ হারান সিলেটের বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাদেরকে ইতালি পাঠানোর জন্য ৮ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন রাজা ম্যানশনের ইয়াহিয়া ওভারসিজ নামক এজেন্সির মালিক এনামুল হক। এ ঘটনার পরই অবৈধ ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত