বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ মে, ২০১৯ ০১:৫৪

বন্দরবাজার-চৌহাট্টা সড়ক নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় মেয়র

রিকশা বন্ধ হয়নি, উভয়মূখী যান চলাচলও চালু হয়নি

সেতু সংস্কার কাজের জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২ মে চালু করা হয় নগরের চৌহাট্টা-বন্দরবাজার সড়ক। ওইদিন থেকেই এ সড়ক দিয়ে রিকশা চলাচল বন্ধ ও বহুমুখী চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন মেয়র। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি এমন ঘোষণা। মেয়রের ঘোষণার পরও উভয়মুখী চলাচল চালু না হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

এবার নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সড়কের যান চলাচল নিয়ে এখনও কোনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা চলছে। এসব পরীক্ষ-নিরিক্ষার ফল দেখে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বলছে, এই সড়কে উভয়মুখী চলাছর চালুর পূর্বে সড়ক সম্প্রসারণ করা ও বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো সরানো প্রয়োজন।

সিলেট নগরীর প্রধানতম এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে একমুখী যান চলাচল চালু রয়েছে। কেবল বন্দরবাজার-চৌহাট্টামুখী যান চলাচলই করতে পারে। চৌহাট্টা থেকে বন্দরবাজারমুী যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয় না।

গত ২ মে মহানগর পুলিশের সাথে বৈঠকের পর সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছিলেন, এই সড়কের উপর বসানোর পুলিশের চেকপোস্টগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে রোববার (১৯ মে) পর্যন্ত সড়ক দখল করে বসানো চেক পোস্ট অপসারণ করেনি পুলিশ। এছাড়া রিকশা, লেগুনা, ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও এখনও দিনের বেলা রিকশা ও লেগুনা এবং রাতে ট্রাক চলাচল করতে দেখা গেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২ মে'র পর থেকে পর্যবেক্ষণের জন্য মাঝেমাঝে এই সড়কে উভয়মুখী যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। আবার কখনো রিকশা-লেগুনা চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এভাবে পরীক্ষা-নিরিক্ষা চালানো হচ্ছে।

এই সড়ক ব্যবহারকারী অটোরিকশা চালক হাবিবুর রহমান বলেন, এই সড়ক বহুমুখী করার ঘোষনার পরও চৌহাট্টা পয়েন্ট থেকে বন্দরবাজারের দিকে আসতে দেওয়া হয় না। আমার মাঝেমাঝে আসতে দেওয়া হয়। একারণ আমরা ও যাত্রীরা বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মোটর বাইক চালক মন্জুর ইসলাম বলেন, সড়ক যদি বহুমুখী করা হয় তাহলে ভালো ভাবে করা হোক। চৌহাট্টা পয়েন্টে রাস্তার মধ্যে যে ট্রাফিক বক্স রাখা হয়েছে সেটা উঠানো হোক। বহুমুখী হয়েছে ঘোষণার পর এই সড়ক ব্যবহার করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।   

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই সড়ক বহুমুখীকরণের জন্য বর্তমানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। আমরা দেখছি কোনটা করলে সুবিধা হবে। বর্তমানে কোর্ট পয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার পর্যন্ত রিকশা, লেগুনা চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তাঁতী পাড়া, পূর্ব জিন্দাবাজার, মির্জাজাঙ্গাল পয়েন্ট থেকে কিছু রিকশা আসে। এ রিকশাগুলো নিয়েও পরিকল্পনা করতে হবে।

তিনি বলেন, কিছু দিনের মধ্যেই টাউনবাস চালু করে একটা সড়ক নিয়ে একটি চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তখন আমরা আমাদের পাবলিক ট্রান্সর্পোটগুলেঅকে পুরোদমে কন্টোল করবো। আমরা এখনো ভালো ভাবে জানি না গাড়ি কোথায় ইউর্টান নিলে বা স্টপিজ দিলে জ্যাম হবে। সেইগুলোরই সার্ভে চলতেছে। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এই বিষয়টা সম্বন্নয় করছে।

তিনি বলেন, সার্ভে না করলে আমরা বুঝতে পারবো না এর পাশ্বপ্রতিক্রিয়া কি হয়। সার্ভের পর সব দিক বিবেচনা করেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিব। যেহেতু সার্ভে চলতেছে তাই আমরা সড়কে যানবাহন চলাচলের নিয়ম বা নির্দেশনা মূলক কোনো সাইনবোর্ড লাগাই নি। এই সার্ভের পর আমরা সড়কে যান চলাচলের সাইনবোর্ড লাগাবো। আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিব এবং এ সড়কে যানবাহন চলাচলের নিয়ম বা নির্দেশনা মূলক কোনো সাইনবোর্ড লাগাবো তখন কেউ নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেবো। সব কিছু দেখে সবার সুবিধা অসুবিধা চিন্তা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই সড়ক বহুমুখী করার ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়নি। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে জরিপ চলছে। যেহেতু নগরের প্রধান একটি সড়ক এটি তাই এই সড়কে চালক বা যাত্রীদের দূর্ভোগ কোনো ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, এই সড়কের প্রধান সমস্যা যানজট। এই যানজট নিরসনের জন্যই নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই সড়ক বহুমুখী করার ক্ষেত্রে আরো বিভিন্ন বিষয় জড়িত। যেমন সড়ক বড় করতে হবে, বিদ্যুতের খুটিগুলোকে সরাতে হবে, হকার উচ্ছেদ করতে হবে। এই কাজগুলো না করে বহুমুখী করে দিলে ভালো কোনো ফলাফল আসবে না।

চৌহাট্টার পুলিশের চেকপোস্ট বক্স বিষয়ে তিনি বলেন, সড়কের মধ্যে ট্রাফিক বক্স কোনো ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। যেহেতু এই সড়কটি একমুখী ছিল তাই ট্রাফিক বক্সটি কোনো সমস্যা করেনি। এখন যদি চূড়ান্ত ভাবে সড়ক বহুমুখী করা হয় তবে ট্রাফিক বক্সটি সরাতে বেশি সময় লাগবে না। এ বিষয়ে মেয়রের সাথেও কথা হয়েছে। এই ট্রাফিক বক্সটি সরানোর পর নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে পাশেই একটি ওয়াচ টাওয়ার করার পরিকল্পনাও আছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত