শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

১২ জুলাই, ২০১৯ ১৩:২৩

১৪ বছর কারাভোগের পর মুক্তি, পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করলেন সুনামগঞ্জের ডিসি

১৪ বছর কারাভোগের পর সেই কারামুক্ত জাহাঙ্গীরকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করে দিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক। ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহের জন্য পুর্নবাসন তহবিলের আওতায় বিশ হাজার টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

জানা গেছে, জেলার দিরাই উপজেলার দাউদপুর গ্রামের মো. আব্দুল খালেকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম একটি ফৌজধারী মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ১৪ বছর জেলা কারাগারে কারাভোগ করেন। সাজার মেয়াদ শেষে  গত ৯ জুলাই জেলা কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন তিনি।

কারাগারে থাকা অবস্থায় গত জুন মাসে কারাগারে পরিদর্শনে গেলে কয়েদী জাহাঙ্গীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের নিকট আলোর পথে ফিরে আসার ইচ্ছ প্রকাশ করে সাজার মেয়াদ শেষে তাকে পুর্নবাসন ও একটি কর্মসংস্থান তৈরী করে দেয়ার জন্য মৌখিকভাবে আবেদন জানান।

এদিকে কারামুক্তির পর বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) জেলা কালেক্টরেটে জেলা প্রশাসকের নিয়মিত গণশুনানীকালে হাজির হন সেই জাহাঙ্গীর আলম।

গণশুনানীতে হাজির হয়ে জাহাঙ্গীর জেলা প্রশাসকের নিকট তার কারাভোগের কথা তুলেধরে জানায়, কারামুক্তি পেলেও বর্তমানে তার কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। সে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে চায়।  পরিবারে তার পিতা মাতা ও ছোট বোন রয়েছে।

পরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ পুনর্বাসন তহবিল হতে ব্যবসা করার জন্য জাহাঙ্গীরের হাতে বিশ হাজার টাকার অনুদানের একটি চেক তুলে দেন।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাহাঙ্গীর প্রাপ্ত ২০ হাজার টাকা দিয়ে চা- বিস্কিটের দোকান করবে দিরাই পৌরসভা বাজারে।  দিরাই উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি)কে জাহাঙ্গীরের নিয়মিত তদারকিতে রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়।

চেক প্রাপ্তির পর জাহাঙ্গীর এ প্রতিবেদকের নিকট নিজের অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, "এ টাকা দিয়ে সৎভাবে ব্যবসা করে পিতা- মাতা ও ছোট বোনটিকে নিয়ে বাঁচতে চাই, আলোর পথে ফিরতে চাই, ছোট বোনটিকে ভাল ভাবে লেখাপড়া করাতে চাই।"

তিনি আরো বলেন, "আমার মত একজন কারাভোগকারীর আবেদনে সাড়া দিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় যেভাবে কর্মসংস্থানের জন্য বিশ হাজার টাকার চেক আমার হাতে তুলে দিলেন তাতে আমিসহ আমার অসহায়হ পরিবার গর্ব করে বলতে পারি তিনি সুনামগঞ্জের গণমানুষের মনে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।"

আপনার মন্তব্য

আলোচিত