শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ আগস্ট, ২০১৯ ২১:৩৭

গোলাপগঞ্জের ইউএনও’র অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অপসারণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার কালিকৃঞ্চপুর এসইএসডিপি মডেল উচ্চবিদ্যালয় অর্গানাইজিং কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসীরা।

শনিবার (১০ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবী জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, গোলাপগঞ্জের শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে কালিকৃঞ্চপুর এসইএসডি উচ্চবিদ্যালয় ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে এতে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন মো. শরীফুল্লাহ। এরপরই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। স্কুলে নিয়মিত না আসাসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠে। পাশাপাশি স্কুলটির লেখাপড়ার মানও কমতে থাকে। তার অপকর্মের কারণে স্কুলটির অর্গানাইজিং কমিটি ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই তাকে শোকজ করে। জবাবে শরীফ উল্লাহ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার ও ভবিষ্যতে দুর্নীতি করবেন না মর্মে ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে এমন অঙ্গীকারও করেন। তবে তিনি আবারও যথারীতি দুর্নীতি শুরু করেন। টাকা আত্মসাৎ, কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি না করা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না হওয়া-ইত্যাদি অনিয়মের কারণে গোলাপগঞ্জের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি ৫৪ হাজার টাকা গড়মিল পায়। এর শাস্তি হিসাবে ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অর্গানাইজিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, তার এমপিওভুক্তির কাগজপত্র অগ্রসর করা হবে না। সভায় সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম। তাছাড়া এ বছরের ফেব্রæয়ারি থেকে জুলাইর প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি কমিটিকে না জানিয়েই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। অনুমোদন ছাড়া ৬ মাস অনুপস্থিত থাকায় অর্গানাইজিং কমিটি থানায় একটি সাধারণ ডায়রিও করেছিল।

তারা আরও বলেন, কয়েকদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় তালুকদারকে উপজেলায় তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আসেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে রেজুলেশনে প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে নেয়া সিদ্ধান্ত অংশ কেটে তাকে স্বপদে বহাল এবং তার এমপিও এর বিষয়টি অগ্রগামী করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে লিখতে বলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজুলেশন খাতায় কমিটির সিদ্ধান্ত তিনি এভাবে কাটতে পারেন না জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে  ভয়ভীতি দেখান এমনকি কথা না শুনলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, অব্যাহত চাপে ও হুমকিতে তিনি একদিন আগের রেজুলেশনের সেই অংশ কেটে ‘শরিফউল্লাহকে স্বপদে বহাল এবং তার এমপিও অগ্রগামী করার সুপারিশ করার কথা লিখেন। পরে উপরের অংশ এবং সভাপতির সীল স্বাক্ষর কেটে নিচে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সভাপতি মামুনুর রহমান তার নিজের স্বাক্ষর ও সিল প্রদান করেন। যাহা আদৌ কোন অর্গানাইজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ছিলনা এবং কমিটির কেউ এই বিষিয়ে অবগত নন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অর্গানইজিং কমিটির সদস্য মো. উবাইদুল্লাহ, এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আসকর আলী, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. হাছন আলী ও মো. মুক্তার আলী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত