বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:২৪

সিলেট থেকে ৭০৩ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হয় উদয়ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ রেলস্টেশনে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের আগে সিলেট থেকে ৭০৩ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিল উদয়ন এক্সপ্রেস।

প্রতিদিনের মতো সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত পৌনে ৯টায় ১৬টি কোচ (বগি) নিয়েই সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায় ট্রেনটি। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ রেলস্টেশনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকামুখী ‘তূর্ণা নিশীথা’র সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে এখন পর্যন্ত ১৬ যাত্রী নিহত ও আরও শতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান বলেন, উদয়নের ১৬টি কোচে রয়েছে, যার আসন সংখ্যা ৬২২টি। তবে দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে মোট যাত্রী ছিলেন ৭০৩ জন।  

এদিকে দুর্ঘটনার পর উদয়ন এক্সপ্রেস দুর্বল কোচ দিয়ে চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে নড়বড়ে কোচ দিয়ে সিলেট রুটে শুধু উদয়নই নয়, সব ক’টি ট্রেন চলাচল করছিল বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তাছাড়া ডাবল লেন না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন চলাচল করছে।

এ অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উদয়নের কোচগুলো বেশ পুরনো। এ কারণে দুর্ঘটনায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল পাহাড়তলির বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (কারখানা) কাজী মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, উদয়নের কোচগুলো পুরনো বলা যাবে না। বিভিন্ন সময় কোচগুলো যুক্ত করা হয়েছে। মূলত তূর্ণার ইঞ্জিন উদয়নের পেছনের তিনটি কোচে আঘাত করেছে। সে কারণে উদয়নের কোচগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে এ দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে তূর্ণা নিশীথার চালকের সিগন্যাল অমান্য করাকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করছেন রেল কর্মকর্তারা। মন্দবাগ রেলস্টেশনের মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী জানান, আউটার ও হোম সিগন্যালে সর্তক সংকেত লাল বাতি ছিল। কিন্তু তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

একই কথা বলেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সাংকেতিক ও যোগাযোগ প্রকৌশলী অসীম কুমার তালুকদার। তিনি বলেন, তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল অমান্য করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তাছাড়া, তূর্ণার ইঞ্জিন সরাসরি উদয়ন ট্রেনের পেছনের তিনটি কোচে আঘাত করে। এতে কোচগুলো দুমড়ে-মুচড়ে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।   

উল্লেখ্য, রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ে সিলেট-চট্রগ্রাম রুটে উদয়ন ও পাহাড়িকা নামে দু’টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। উদয়ন ও পাহাড়িকার যাত্রা শুরু ১৪টি কোচ নিয়ে। বিগত বছরগুলোতে এ সংখ্যা কমিয়ে করা হয় নয়টি। তাছাড়া, নড়বড়ে কোচ দিয়ে ট্রেনগুলো চলাচল নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবশেষে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে এসব ট্রেনে কোচ সংখ্যা ১৬টি করা হয়।

জানা যায়, ২০১৪ সালে সিলেট-ঢাকা রুটে ১৪টি কোচ নিয়ে যাত্রা শুরু করে কালনী এক্সপ্রেস। এরপর কোচ কমিয়ে আনা হয় চারটিতে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই চারটি কোচ নিয়েই যাত্রী পরিবহন করে ট্রেনটি। ২০১৮ সালের শুরুর দিক থেকে আটটি কোচ করা হয়েছিল। পরে আরও একটি কোচ কমিয়ে দেওয়া হয়। জয়ন্তিকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস মধ্যখানে কমে ১২টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। পরে অবশ্য আরও চারটি কোচ যুক্ত করা হয়। পারাবত এক্সপ্রেসে ১৫টি থেকে তিনটি কমানো হলেও এখন ১৬টি কোচ নিয়ে চলছে।

১৮৯১ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে বাংলার পূর্ব দিকে রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হয় আসামে চা রোপণকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে। ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে রেল যোগাযোগ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১২-১৫ সালে কুলাউড়া-সিলেট রুট খোলা হলে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন চালু হয়। এই রুটে মিটার গেজে চলাচল করছে ট্রেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার (১১ নভেম্বর) ভোর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। উদয়ন এক্সপ্রেস সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ও তূর্ণা  নিশীথা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখে ছিল। মন্দভাগ রেল স্টেশনের কাছে ট্রেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে দুটি ট্রেনেরই বেশ কয়েকটি করে বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

এতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ও রেলওয়ে থেকে দু’টি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে এসব তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেল সচিব মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত