মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৩৩

বিশ্বনাথে বিএনপির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় মামলা, অভিযুক্ত ৪৯

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি মিছিল ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার রাতে থানা পুলিশের এসআই দিদারুল আলম বাদি হয়ে বিএনপি নেতা সুহেল চৌধুরী, জালাল উদ্দিন ও আব্দুল হাই গ্রুপের ২৪জনের নাম উল্লেখ করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন, (মামলা নং ১৬)।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় দায়ের করা ওই মামলায় আটক জয়নাল আবেদীনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে আরও ২৫জনকে। রোববার ঘটনাস্থল থেকে আটক করা ৫জনকে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তবে, উপজেলা বিএনপির সদস্য জয়নাল আবেদীন (৪৪), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাজ্জাদ আলী শিপলু (৩০) ও উপজেলা ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন টিপুকে (২৫) ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখালেও বাবুল মিয়া (৪৬) ও জুনাব আলীকে (৪০) ১৫১ ধারায় জেলহাজতে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, গ্রেপ্তার ৫জনের দু’জনকে ১৫১ধারায় আর তিনজনকে ওই মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলায় বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সুহেল চৌধুরীর ক্ষোভ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিনের উপর। আর ওই উপজেলা কমিটি গঠনের বিরোধের জেরে গত ৬ নভেম্বর বুধবার রাতে বিশ্বনাথ বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করেন সুহেল আহমদ চৌধুরী। এ ঘটনার পর থেকে সুহেল চৌধুরী ও জালাল উদ্দিন গ্রুপের নেতাদের মধ্যে টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আর এ ঘটনা নিয়ে বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল হাই গ্রুপের নেতা বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল আহমদ তার ফেসবুকের টাইমলাইনে সুহেল চৌধুরীর বিপক্ষে কটূক্তিমূলক প্রতিক্রিয়া দেন।

এজন্য রোববার রাতে বিশ্বনাথ পুরান বাজারে তার উপর হামলা করেন সুহেল চৌধুরী গ্রুপের গ্রেপ্তার হওয়া সাজ্জাদ আলী শিপলু ও ইমরান হোসেন টিটু। হামলার শিকার হয়ে আব্দুল হাই গ্রুপের ছাত্রদল নেতারা সভাপতি জালাল উদ্দিন গ্রুপের সঙ্গে এক হয়ে রাসেলকে নিয়ে সুহেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেন। সঙ্গে সঙ্গে সুহেল চৌধুরী অনুসারীরাও থানার সম্মুখে পাল্টা মিছিল করেন। ঠিক ওই সময় দু’পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ বিএনপি নেতাকে আটক করে। এসময় বিশ্বনাথ পুরান ও নতুন বাজারে বিএনপির দুই অফিসসহ একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত