বুধবার, , ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ ইং

বেনাপোল প্রতি‌নি‌ধি

১১ জানুয়ারী, ২০১৯ ২২:৪৭

বাংলাদেশি হাইকমিশনারের সহযোগিতায় দেশে ফির‌লো মা-ছেলে

আইনি জটিলতায় ভারতে আটকা পড়া বাংলাদেশি মা-ছেলে দীর্ঘ ৩৬ দিন পর অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনার সহযোগিতায় সন্ধ্যা ৬ টায় তাঁরা দেশে ফেরেন।

এদিন সন্ধ্যায় ভারতের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনার কাউন্সিলর ও দূতালয়ের প্রধান বিএম জামাল হোসেন তাদের বাংলাদেশি সার্চ মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান রুবেলের হাতে তুলে দেয়।

ফেরত আসা নারী হলেন যশোর ফতেপুর গ্রামের বিল্লাত আলীর স্ত্রী রোকসানা খাতুন (৩০) ও তার ছেলে শাওন (৩)।

জানা যায়, দালা‌লের খপ্পরে পড়ে ভালো কাজের প্রলোভনে রোকসানার ভাই ভারতে গিয়ে দিল্লীতে পুলিশের হাতে আটক হয়। এ খবর পেয়ে সে তার ভাইকে ছাড়াতে পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে দিল্লী যায় রোকসানা। এসময় অসতর্ক বসত ভারতে তিন মাসের অধিক সময় অবস্থানে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সে ভুলে যায়। পরে দেশে ফেরার জন্য ভারতের পেট্রোপোল ইমিগ্রেশনে আসলে তারা একসাথে ৯০ দিন অতিক্রম করার অপরাধে প্রতি পাসপোর্টে  ২১ হাজার ৬৬০ রুপি জরিমানা পরিশোধ করতে বলেন।

কিন্তু তার কাছে কোন অর্থ না থাকায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিলেন ঐ নারী। এসময় বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশন খবর পেয়ে তার পাশে এসে দাঁড়ান। তারা ভারত সরকারকে দুই পাসপোর্টে ৪৩ হাজার ২০০ রুপি জরিমানা পরিশোধ করে মা ও ছেলেকে দেশে ফিরতে সহযোগিতা করে। তিনি এ মানবিক কাজের জন্য উপ-হাইকমিশনার কর্মকর্তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সূত্র জানায়, ভারত সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী (মুসলিম সম্প্রদায়) যারা টুরিস্ট ভিসায় ভারতে গিয়ে একসাথে ৯০ দিনের বেশি অবস্থান করবে তাদের পাসপোর্ট প্রতি ভারত সরকারকে ২১ হাজার ৬০০ রুপি  ও বাংলাদেশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যাত্রীদের  পাসপোর্ট  প্রতি মাত্র ১শ রুপি জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের যাত্রীদের আর অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যাত্রীদের জরিমানার মধ্যে এমন ব্যবধানের বৈষম্যের বিষয়ে জানতে চাইলে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনার কাউন্সিলর ও দূতালয়ের প্রধান বিএম জামাল হোসেন  জানান, এটা ভারত সরকারের পলিসি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত