নাদির আহমেদ, শাবিপ্রবি

১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:১৫

খানা খন্দে ভরা শাবিপ্রবির সড়ক, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) মূল ফটক থেকে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলমুখী সড়কগুলো এখন খানা-খন্দে ভরা। একটু বৃষ্টি হলেই কিছু রাস্তা পরিণত হয় ডোবা নালায়। প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকায় মালবাহী ট্রাকগুলো চলাচল করে এসব রাস্তা দিয়ে। ফলে রাস্তাগুলোয় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। সংস্কারের অভাবে এসব রাস্তা এখন যানবাহন ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রিকশা বা মোটরসাইকেল চালকদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাবিপ্রবির সড়কগুলো এমন বেহাল অবস্থায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শয়ন আহমেদ বলেন, “প্রতিদিন ক্লাসে যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু কিলোরোড এর যে দুরবস্থা হয়েছে তাতে এদিকে যাওয়ার নাম শুনলেই বিতৃষ্ণা লাগে। রাস্তা খারাপ হওয়ায় এতে শুধু সময় নষ্ট হয় না, ধোলাবালুর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। খানা-খন্দে ভরা রাস্তার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থেকেই যায়। অনেক সময় সাইকেল ও মোটরবাইক চালকরা পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন।”

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, “শাবিপ্রবির ভেতরের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমরা কথা বলে আসছি। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারক পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গোল চত্বর থেকে মুজতবা আলী হল পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা তো খুবই বেহাল। প্রশাসনের কোন কাজটি প্রায়োরিটি দিয়ে করা উচিত, এটা অবশ্যই লক্ষনীয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কার করতে হবে।”

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী ওয়াক্কাস বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে মেগা প্রকল্প চলমান। টেকসই উন্নয়ন সবার কাম্য। উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রভাবে আভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল দশা। যেন কেউ দেখার নেই। নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী হাতি সদৃশ্য যান গুলো ভেতরে প্রবেশ না করিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় আনলোড করে ছোট ছোট ট্রাকে প্রকল্পে পৌঁছাতে পারলে জন-ভোগান্তি কমবে। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সবার জন্যই সড়ক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে যান মালের ক্ষতি এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। জরুরি ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে সড়ক মেরামত করা সময়ের দাবি।”

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী ও উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীকে একাধিকবার কল দিলেও তারা ফোন ধরেননি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত