২২ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:০৬
মঙ্গলবার রাতে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুব্ধ শিক্ষক পরিষদের যুগ্ন আহ্বায়ক মোস্তাবুর রহমান
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষকদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের একপক্ষ উপাচার্যের অপসারনে কঠোর আন্দালোন শুরুর পক্ষপাতি। আরেক পক্ষ এখনই কঠোর আন্দোলনে নেমে সরকারকে 'বিব্রত' করতে নারাজ।
এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্বিবদ্যালয়ের আওয়ামী সমর্থিত ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’র বৈঠকে অন্তত ২৬ জন প্রভাবশালী সদস্য অংশ নেননি। এর ফলে বৈঠক শুরুর আগে বৈঠক থেকে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেলেও বৈঠকে অপেক্ষাকৃত নমনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘ চার ঘন্টার বৈঠকের পর রাত সাড়ে ৮ টায় বৈঠক শেষে বুধবার (২২ এপ্রিল) মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষক রাজনীতিতে নতুন হিসেব-নিকেশ শুরু হয়েছে।
‘অসৌজন্যমূলক ও রূঢ় আচরণের’ জন্য উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে সোমবার সকালে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে একযোগে ৩৫ শিক্ষকের সরে দাঁড়ান। একযোগে পদত্যাগ করলেও পদত্যাগপত্র মঙ্গলবার পর্যন্ত গৃহিত হয়নি।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূইয়া নিজ কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে এগ্রিকালচার এন্ড মিনারেল সায়েন্স অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. নারায়ন সাহাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মো. ইশফাকুল হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে আলোচনার জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগের রাতে ব্যক্তি পর্যায়ে আলোচনা ফলপ্রসু না হওয়ায় ডীন ও বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে উপাচার্য এ বৈঠক করেন বলে সূত্র জানায়।
নিজেদের পরিষদের শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোয় উপাচার্যকে ‘চাপে’ ফেলার পাশাপাশি এতে সরকারও ‘বিব্রত’ হচ্ছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’র অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের কয়েকজন বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তাতে সরকার বেকায়দায় পড়তে পারে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হওয়া এ বৈঠকে যাননি পরিষদের সাবেক আহবায়ক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে অতীতে সম্পৃক্ত থাকা পরিষদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্তত ২৬ জন শিক্ষক।
বৈঠকে যোগদান থেকে বিরত থাকা প্রসঙ্গে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’র সাবেক আহবায়ক ও শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈঠকে যাওয়া সমীচিন হবে না বলে যাইনি।
অতীতে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা একই পরিষদের আরেক শিক্ষক বলেন, কয়েকজনের শিক্ষকের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির দায় পরিষদের সকলে কেন নিতে যাবে। পাশাপাশি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এতে সরকারকেও বিব্রত করা হবে। আরেক শিক্ষক বলেন, হঠাৎ করে আন্দোলনের এত তীব্রতার প্রয়োজন ছিল না। উপাচার্যের ব্যবহারে সমস্যা হলে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তা অবহিত করে অন্যভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
এছাড়া আওয়ামী-বাম সমর্থিত ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’দের আরেক পরিষদ প্রকাশ্যে নীরব ভূমিকায় রয়েছে। তবে ‘প্রয়োজনে’ তারা প্রশাসনে স্থিতিশীলতার জন্য মাঠে নামতে পারে বলে একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে। নিজেদের মধ্যে আন্দোলনের ‘তীব্রতা’ নিয়ে মতানৈক্য ও অন্য গ্রুপের প্রকাশ্য মৌনতায় ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’র সভা দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ বিল্ডিংয়ের গ্যালারীতে এ পরিষদের করণীয় নির্ধারণী বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের আগে কয়েকজন শিক্ষক উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষনার সিদ্ধান্ত হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ছাত্রলীগকে জড়িত করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অঞ্জন রায় বলেন, আমরা শিক্ষকদের ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতির অংশ হতে চাই না।
আপনার মন্তব্য