নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ মে, ২০১৫ ১৮:২৭

জাফর ইকবালকে চাবুক মারতে চান এমপি কয়েস: ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়া, নিন্দা আর প্রতিবাদ

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ সামাদ চৌধুরী কয়েস কর্তৃক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রখ্যাত লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে চাবুক মারার ইচ্ছা হুমকির প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। 

শনিবার (৯ মে) সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে উপজেলা সদরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে হাজী সাজ্জাদ আলী কল্যাণ ট্রাস্টের মেধা বৃত্তি বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ সামাদ চৌধুরী কয়েস জাফর ইকবালের ‘সিলেটবিদ্বেষী’ উল্লেখ করে হুমকির সুরে বলেন- ‘আমি যদি বড় কিছু হতাম তাহলে জাফর ইকবালকে কোর্ট পয়েন্টে ধরে এনে চাবুক মারতাম।’

এমন খবর প্রকাশ করে ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম, সিলেটভিউ২৪ডটকম দৈনিক যুগান্তর এবং আরও কয়েকটি অনলাইন ভিত্তিক গণমাধ্যম।

শিক্ষাবিদ জাফর ইকবালকে চাবুক মারার হুমকি দেওয়ার পরেও থেমে থাকেননি এমপি কয়েস। তিনি জাফর ইকবালকে ‘এক লাখ পার্সেন্ট গৌড়গোবিন্দ’ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘সে চায় না সিলেটের মানুষ শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোক। ভালো ভিসি ছিল তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। সিলেটের মানুষ ফুলচন্দন দিয়ে তাকে প্রতিদিন পূজা করে।’ সংবাদ সূত্র: ক্যাম্পাস লাইভ।

সংসদ সদস্য মাহমুদ সামাদ চৌধুরী কয়েসের এ চাবুক মারার হুমকি ও কটূক্তির পর ফেসবুকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকেই তাঁর পিতার একাত্তরের শান্তি কমিটির সদস্যের পরিচয় উল্লেখ করে বলেন- এর মাধ্যমে এমপি কয়েস তাঁর পিতার দেখানো পথে হাঁটলেন এবং এর ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লেখক জাফর ইকবালকে আক্রমণের জামায়াতি পথই ধরলেন।

জিল্লুর রহমান তার ফেসবুকে লিখেন- মূর্খামীরও তো একটা সীমা থাকা উচিত। আমরা কতটা অসভ্য, বর্বর জাতি। যে দেশ সেরা একজন শিক্ষাবিদকে জনসম্মুখে এ ধরণের কথা বলতে পারে সে কিভাবে একজন সংসদ সদস্য হয়, তা আমার বোধগম্য নয়। দেশের মানুষগুলোকে কি আসলেই তারা গরু ছাগল ভাবে?

এমপি কয়েসের আঞ্চলিকতা ইস্যুর সমালোচনা করে ইশতিয়াক হোসেন সিদ্দিকী লিখেন- যার যোগ্যতা আছে সে সিলেটি হিসেবে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা বলে না, নিজের যোগ্যতায় অন্য ছেলেমেয়েদের পেছনে ফেলে নিজ স্থান নিশ্চিত করে সে। আমি জানি সিলেটের শিক্ষার্থীদের মেধা সম্পর্কে তোর মত রাম ছাগলের বিন্দুমাত্র ধারণাও নাই। তবু কেন বারবার "সিলেটি বলে শাবিতে ভর্তি হব" বলে বর্তমান শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাকে ছোট করিস তোরা?

ব্লগার নিঝুম মজুমদার একটি লিংক শেয়ার করে সেখানে ক্ষোভের সঙ্গে লিখেন- বাহ তেঁতুল শফী গংদের এবার তো দেখছি অবসরে যেতে হবে। শফী কিংবা বাবুনগরীর স্থান দখল করবার জন্য একজন আওয়ামী গন্ডমূর্খ বাজারে চলে এসেছে।

কাজল দাস ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সুরে লিখেন- এমপি মাহমুদ সামাদ চৌধুরী কয়েস বলেছেন, আমি বড় কিছু হলে জাফর ইকবালকে কোর্ট পয়েন্টে এনে চাবুক মারতাম'। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ শিক্ষককে পেটায়, শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করে, সেই তুলনায় এমপি একটু কমই বলেছেন। জামাত শিবির একবার বলেছিল, জাফর ইকবালের জিহবা কেটে নেবে, আমরা তার প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম, এবার এই ছ্যাচড়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ান। ক্যাম্পাসে এনে তাকে কান ধরে উঠবস করানো হোক ইতর এমপিটাকে। ওয়েক আপ SUSTIAN

ছাত্রনেতা প্রণব পাল প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ডাক দিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন- বিনা প্রতিযোগীতায় পদ ফেলে এভাবেই অথর্ব অমার্জনীয়দের মতো কথা বলা যায় মি: মাহমুদ।
সিলেট -৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ সামাদ চৌধুরী আজ সিলেটের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন "আমি যদি বড় কিছু হতাম তাহলে জাফর ইকবালকে কোর্ট পয়েন্টে ধরে এনে চাবুক পেটা করতাম।"

এখন শাবির ছাত্র ছাত্রীদের কর্তব্য মি: মাহমুদ কে যতটুকু বড় হয়েছে সেখান থেকে টেনে আর ছোট করে দেওয়ার্। যার যোগ্যতা যতটুকু তাকে সেই ভাবে রাখা উচিত। না হলে ওরা আর বড় হলে কি করতে পারে তা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন ক্যাম্পাসের চিত্র তা বলে দেয়। হোক প্রতিবাদ প্রতিরোধ।

সানজিদা সুলতানা লিখেন- ভাবছি ঢাকার ছেলেমেয়েরা না আবার মিছিল করে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ ভাগ কোটা দিতে হবে তাদের। তাহলে তো বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের এলাকার ছেলেমেয়েদের ৫০ ভাগ কোটা দিতে হবে। এরা নিজেরা পড়ালেখা করে না...। যোগ্যতা থাকলে বাকিদের সাথে পরীক্ষা দিয়েই আসুক না। কে মানা করেছে? তাদের জন্য মনে হচ্ছে আলাদা প্রশ্নপত্র বানাতে হবে। ফালতু।

ফেসবুকে বাংলার রাজা আইডির একজন মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েসের এমন উক্তির প্রতিক্রিয়ায় লিখেন- জনাব এমপি বোধ হয় জানেন না যে একজন খারাপ লোকও এমপি হতে পারেন ... জনগণ ভোট দিলে, কিন্তু শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হলে মাথায় কিছু থাকতেই হবে, প্রখ্যাত লেখক ড. জাফর ইকবালকে চাবুক মারার ইচ্ছাটা করে জনাব মাহমুদ সামাদ চৌধুরী কয়েস আমার মতে মোটেও ভাল কাজ করেননি, কথাটা হয়তো অন্য ভাবেও বলা যেত.......।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস এমপি'র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সিলেট-৩ আসন থেকে আওয়ামিলীগের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত