২২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:০৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একটি দোকানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন প্রক্টর। এ সময় সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা দোকানদারকে মারধর ও দোকান ভাঙচুর করেছে।
বুধবার বেলা ১২টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি পরিবহন মার্কেটের ক্যাম্পাস ফুড কর্ণার নামের দোকানের অবৈধ বর্ধিত অংশ উচ্ছেদ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় দোকানদার ও তার ছোট ভাইকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
মাধরের ঘটনায় দোকানদার নিজাম উদ্দিন আলম, তার ছোটভাই মুন্না ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী আহত হন।
এ তথ্য নিশ্চিত করে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার পূর্বে ওই দোকানদার আলম তার দোকানের সামনে রাস্তা বন্ধ করে চালা দিয়ে বর্ধিত করে। বিষয়টি প্রক্টর দফতরের নজরে আসলে আমরা তাকে বর্ধিত অংশ ভেঙে নিতে বলি। কিন্তু আলম ভর্তি পরীক্ষার পরেই সেটা ভেঙে ফেলা হবে বলে আমাদের আশস্ত করে।’
প্রক্টর বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার এক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই বর্ধিত অংশ ভেঙে না ফেলায় আজ (বুধবার) বেলা ১২টার দিকে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি অভিযানে যায়। অভিযানে বর্ধিত অংশটি ভেঙে নিতে বললে দোকানদার আলম উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে অশালিন আচরণ ও গালিগালাজ শুরু করে। বিষয়টি দেখে পাশেই থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী দেকানদারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও সে বাজে আচরণ করে। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে সে আহত হয়। এরপরই আশেপাশের শিক্ষার্থীরা দোকানে ভাঙচুর ও তাকে মারধর করে। এসময় তার ছোটভাই মুন্না এসে উচ্চবাচ্চ্য করলে তাকেও একটু মারধর করে শিক্ষার্থীরা। এসময় প্রক্টরিয়াল বড়ি শিক্ষার্থীদের শান্ত করে। তা না হলে দোকান ভেঙে তারা গুড়িয়ে দিতো।’
‘এ ঘটনায় দোকানদার আলম ও তার ছোটভাই মুন্নাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। দোকান ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা অনেক আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছে। সে নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। আশেপাশের দোকানদার ও শিক্ষার্থীরা কেউ তাকে ভালো বলছে না। সবার সঙ্গে সে খারাপ আচরণ করে’- বলছিলেন প্রক্টর।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের লিখিত অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগ দায়ের না করলে আইনগত ব্যবস্থা কেমন হবে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘তখন আমরা আমাদের মতো ব্যবস্থা নিবো’।
আপনার মন্তব্য