আকাশ চৌধুরী

২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ১৩:০৫

দায়িত্বের বিস্তৃত পরিসরে খন্দকার মুক্তাদির: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

সিলেট-১ আসনের জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারায় বেড়ে ওঠা এই নেতা ইতোমধ্যেই নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, সংযমী আচরণ এবং পরিমিত নেতৃত্বের মাধ্যমে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।

তার বাবা ছিলেন একাধিকবারের সংসদ সদস্য—ফলে জনসেবার যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবার থেকে তিনি পেয়েছেন, তা তার নেতৃত্বের ভিতকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে তার রাজনৈতিক যাত্রার মূল শক্তি শুধু উত্তরাধিকার নয়; বরং নিজস্ব ভাবমূর্তি, ব্যক্তিগত সততা এবং মানুষের সঙ্গে সংযোগই তাকে জনআস্থার স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

বর্তমানে তিনি শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এই খাতগুলো দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে তার দায়িত্বের পরিধি যেমন বিস্তৃত, তেমনি তা অত্যন্ত কৌশলগতও। শিল্পখাতের সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি এবং ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পের পুনর্জাগরণ—এই তিনটি ক্ষেত্রেই সঠিক নীতিনির্ধারণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিল্পখাতের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা, দ্রুত সেবা প্রদান এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা প্রদান এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা গেলে শিল্পখাতের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। এই ক্ষেত্রগুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।

বাণিজ্য খাতের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতা, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এখন বড় অগ্রাধিকার। মুক্তাদিরের নেতৃত্বে যদি বাণিজ্যনীতিতে স্বচ্ছতা ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি হলে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

বস্ত্র ও পাট খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। তৈরি পোশাক শিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস, আর পাটশিল্প পরিবেশবান্ধব পণ্যের বিশ্ববাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। গবেষণা, প্রযুক্তি ও বাজার সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে এই খাত দুটিই নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং জোরদার করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যক্তিগতভাবে একজন ভদ্র, সজ্জন ও সংযত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক অঙ্গনে যেখানে প্রায়ই উত্তেজনা ও বিভাজন দেখা যায়, সেখানে তার পরিমিত ও ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব প্রশাসনিক কাজেও স্থিতিশীলতা আনতে পারে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই মানবিক গুণাবলি নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয় তৈরি করতে সহায়ক হয়—যা দীর্ঘমেয়াদে সফলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিলেট অঞ্চলের জন্য তার এই দায়িত্ব বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার ফলে আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সিলেটের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।

সবশেষে বলা যায়, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সামনে যেমন বড় সুযোগ রয়েছে, তেমনি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দূরদর্শী পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি যদি এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারেন, তবে তা শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্যই হবে না; বরং দেশের শিল্প-বাণিজ্য ও পাট খাতের জন্যও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

নতুন দায়িত্বে তার প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। তিনি যেন সততা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞার সমন্বয়ে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দৃশ্যমান অবদান রাখতে পারেন—এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

আকাশ চৌধুরী: সাংবাদিক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত