আতিকুর রহমান নগরী

০৫ মার্চ, ২০১৫ ১৯:০৮

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড ও ইসলামে যুদ্ধনীতি

অভিজিৎ রায়। একজন সিটিজেন লেখক। একজন সৃজনশীল লেখক। তিনি একজন মুক্তমনা লেখক। মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় একজন বৈজ্ঞানিক লেখক। তার লেখায় সর্বদা মুক্তচিন্তার ভাব প্রদর্শন হয়। তিনি ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায়ের ছেলে।

যে বা যারা অভিজিৎ রায়কে হত্যা করেছে। অভিজিৎ কে, কী তার পরিচয়? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি একজন মানুষ। মানুষ হত্যা মহাপাপ পৃথিবীর সব ধর্ম তা-ই বলে। ইসলামের শাশ্বত বাণী, 'যে একজন মানুষকে হত্যা করলো সে মূলতঃ গোটা মানব সম্প্রদায়কে হত্যা করলো। অভিজিৎ কী অপরাধ করেছিলেন। মুক্তমনের অধিকারী ছিলেন তিনি। সবসময় উদারমনে ভাবতেন। হোক তার ভাবনা শুদ্ধ কিংবা ভুল। আমার-আপনার সহমত থাক কিংবা নাই। কিন্তু তাকে এভাবে হত্যা করা হবে কেন ?

যখন মানুষ তার মতের বিরুদ্ধে নিজের মতো করে বলতে ব্যর্থ হয়। তখনই তার বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায়। অভিজিৎ রায়-এর ধর্মবিশ্বাসের সাথে আমাদের দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হবে কেন? বিষয়টাকে সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে আমলে নিতে হবে।

অভিজিৎ রায় ছিলেন একজন লেখক। সাধারণত লেখকরা অসহায় হয়ে থাকেন। আর যদি তিনি হন বাঙালী লেখক, তবে তো আর কোন কথাই নেই। বইমেলা থেকে যাওয়ার পথে লেখক হুমায়ূন আজাদকে কে বা কারা হত্যা করেছিল! যদি সেই হত্যাকারিকে গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করা হতো তবে হয়তঃ আজ আর অভিজিৎ রায়ের প্রাণ যেতো না। কারা হত্যা করেছে অভিজিৎ, হুমায়ূন আজাদ আর সাগর-রুনিকে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তা বের করা সরকারের দায়িত্ব।

কারো কারো অভিযোগ ইসলামপন্থী তথা জঙ্গীগোষ্ঠীর কেউ কেউ এ কাজ করতে পারে। মূর্খতা ইসলামে নেই। ইসলামে যুদ্ধেরও একটা নীতি আছে। ইসলাম কখনও সন্ত্রাসবাদ তথা হত্যা কিংবা কোনো অপকর্ম সমর্থন করে না। ইসলামের নীতি হচ্ছে তোমরা মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দাও হেকমত আর কৌশল এবং উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে (আল-কোরআন)। চাকু-চাপাতি, রামদা ইত্যাদি অস্ত্র দিয়ে গোপণে নিরিহ একজন মানুষকে এভাবে বিচারহীন পথে হত্যা করা ইসলাম কখনও সমর্থন করে না।

অনেকের মতে অভিজিৎ রায় নাকি নাস্তিক ছিলেন। যারা এ অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করে থাকেন তারা মূলত নাস্তিকতার অর্থই বুঝেন না এবং নাস্তিকদের সম্পর্কে ইসলামের বিধান কি তা তারা জানেন না। নাস্তিক বা মুরতাদদের যে শাস্তির বিধান ইসলামে রয়েছে তা হবে আদালতের রায়ের মাধ্যমে। আপনি ব্যক্তিগতভাবে যাকে নাস্তিক মনে করছেন ইসলামি আদালতে সে নাস্তিক নাও হতে পারে।

আমরা আমাদের দেশের মূল ঐতিহ্যকে অক্ষুন্ন রাখতে হলে  আমাদের সবাইকে জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্ম এবং প্রেম-ভালবাসার ভিত্তিতে ব্যক্তিজীবন থেকে নিয়ে রাষ্ট্রীয়জীবন পর্যন্ত সাজাতে হবে।

আমরা অভিজিৎ হত্যার নিন্দা জানাই, আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আমরা চাই সরকার ও দেশের জনগণ অভিজিৎ রায়-এর স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে মানসিক শান্তিদানের চেষ্টা করুক। আমরা চাই বাংলার আকাশে সর্বদা শান্তির পায়রা উড়ুক।

 

ইমেইল: syl.atiknogori@gmail.com

আপনার মন্তব্য

আলোচিত