১২ জুলাই, ২০২৬ ২৩:২৮
পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী সুনামগঞ্জ জেলার কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। কুশিয়ারা নদীর পানি মার্কুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সে.মি. নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো। বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে রাণীগঞ্জ বাজারসহ নদী তীরবর্তী বিভিন্ন বাজার ও গ্রাম। অনেক রাস্তা ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানি নিমজ্জিত।
ইতিমধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ-রৌয়াইল রাস্তা ভেঙে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ন এলাকার। অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন দুর্যোগ। এটি কি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। না মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ। বছরের বছর এমন অবস্থা চলমান। দুর্যোগ আসলে বহুপক্ষীয় লাভ। কেন্দ্র থেকে প্রান্ত বহুপক্ষীয় ভাগাভাগি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ। অথচ দুর্যোগের কারণ নির্মূলে নেই কোনো বিজ্ঞান ভিত্তিক উদ্যোগ।
কুশিয়ারা নদীটি একসময় ছিল খুবই গভীর এবং প্রবাহমান। খুবই গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুট ছিল আজমিরীগঞ্জ - মার্কুলী - শেরপুর - বালাগঞ্জ। সিলেট শহর থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে ভৈরব পর্যন্ত স্টিমার চলাচল করতো, জাহাজ চলাচল ছিল। কালের পরিক্রমায় কুশিয়ারা নদী নাব্যতা হারিয়ে এখন আর পানি ধারণ করতে পারে না। নদীর পাড় উপছে পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। তাছাড়া নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে কত স্থাপনা, কত গ্রাম তার ইয়ত্তা নেই। তবুও যথাযথ কর্তৃপক্ষের এসব সমস্যার সমাধানে নেই টেকসই কোনো উদ্যোগ। আপৎকালীন বরাদ্দের ধারাবাহিক প্রকল্প প্রতিস্থাপনের জন্য যেন সমস্যাগুলো জিইয়ে রাখা হয় বছরের পর বছর। এভাবেই কি চলবে সব সময়। যুগের পর যুগ। বেশ কয়েক বছর থেকে এ বিষয়ে কথা বলছি নানা ফোরামে। সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সরেজমিন পরিদর্শন করে সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করার পরও যখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। তখন কথা বলা আর বার বার লেখার আগ্রহ থাকে না। নতুন সরকার আসার পর যখন খাল খননের তোড়জোড় শুরু হল। তখনও সংশ্লিষ্টদের কাছে পুরাতন প্রকল্প অবগত করার সুযোগ হয়। কিন্তু মাথামোটা প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা তাদের খাল খনন কর্মসূচি আর নদী খনন কর্মসূচির তালগোল পাকিয়ে মূল সমস্যার ধারেকাছেও যেতে পারছেন না । নদীর অস্তিত্ব না থাকলে খাল কিভাবে জীবিত থাকে এই জ্ঞানটুকু সাধারণ মানুষেরও আছে। কিন্তু শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত কার্যনির্বাহকরা তাদের উর্ধ্বতনদের ডিজাইন করা প্রকল্পে 'নদী না খাল ' কোনটা অগ্রাধিকার পাবে তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছেন। সবাই বুঝে, কিন্তু কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। যদি বিপদ বাড়ে! খালের পরিবর্তে নদীর প্রকল্পে যেমন আপত্তি। তেমনি খালের প্রকল্পেও বিপত্তি। এভাবেই কি হবে দুর্যোগের নিষ্পত্তি? এসব কথা বাড়িয়ে লাভ নাই। আত্মতৃপ্তির জন্য পুরনো কিছু কথা নতুন করে বলা যেতে পারে। তবুও যদি টনক নড়ে ।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী বন্যাপ্রবণ এলাকায় বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল একনেকে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের নাম কালনী - কুশিয়ারা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। ২০১১ সালের ১৬ মে প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদন পায়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা ছিল এপ্রিল ২০১১ থেকে জুন ২০১৪। পরে কয়েকবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।এর আওতায় বিভিন্ন স্থানে—নদীতীর সংরক্ষণ,বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসন,নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা,ভাঙনরোধ, হাওরাঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৬০৯ কোটি ৮০ লাখ ৩১ হাজার টাকা। প্রাথমিক প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তবে এর আওতায় গৃহীত কিছু নদীতীর সংরক্ষণ ও ভাঙনরোধের কাজ অব্যাহত আছে। সরকারি অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর তীর সংরক্ষণসহ কয়েকটি কাজ ৯৬–৯৮% পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীকালে হাওর অঞ্চলের বন্যা ব্যবস্থাপনা জোরদারের জন্য সরকার নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে। "অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাসের জন্য টেকসই অবকাঠামো (RIVER)" প্রকল্প নামে ২০২৩ সালে আরেকটি প্রকল্প একনেকের অনুমোদন পায়। কেবল আন্তরিকতা ও সঠিক পদক্ষেপের অভাবে এই প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিস্তীর্ন এলাকার মানুষ।
সিলেট বিভাগের কালনী-কুশিয়ারা নদী ব্যবস্থা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বড় নদী ব্যবস্থা। জকিগঞ্জের অমলসিদ থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত সুরমার দূরত্ব প্রায় ২০৪ কিলোমিটার। সুনামগঞ্জ থেকে পৈন্দা পর্যন্ত মূলধারাটিই সুরমা নামে পরিচিত। পৈন্দা থেকে দিরাই উপজেলার চানপুর হয়ে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার মার্কুলি এলাকায় কুশিয়ারা নদীতে মিলিত হয়েছে সুরমার এই প্রধান ধারা। এটি এখন মৃতপ্রায়-পুরান সুরমা নামে অভিহিত। এই ধারায় মিলিত হওয়ার আগে সুরমা নদীর এই শাখাটি দিরাই উপজেলার চানপুর হয়ে সুজানগর থেকে আজমিরীগঞ্জে গিয়ে আবার কালনী নদীতে মিশেছে। এই ধারাটি ‘মরা সুরমা’ নামে পরিচিত। সুরমার দ্বিতীয় শাখাটি পৈন্দা থেকে পশ্চিম দিকে নৌয়া নদী নামে আট কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে উত্তর-পশ্চিমে আরেকটু মোড় নিয়ে আরো ৯ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে বাঁক নিয়েছে। সেখানে জামালগঞ্জের লালপুরের কাছে বৌলাই নদীতে বাঁক নিয়েছে সুরমা। পরবর্তী সময়ে ঘোড়াউত্রা নাম নিয়ে দিলালপুরে গিয়ে মেঘনায় মিলিত হয়েছে। এই নদীপথের সুবিশাল জলরাশি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলপ্রবাহ হারিয়েছে।
পুরান সুরমা ও মরা সুরমা এখন বলতে গেলে মৃতপ্রায়। সুরমা, কুশিয়ারা নাব্যতা হারিয়েছে। যে নদী পথে একসময় জাহাজ, বড় বড় স্টিমার, লঞ্চ চলতো সেই নদীপথ গুলোতে এখন বড় নৌকা চলাচলই বাধাগ্রস্ত হয়। নদী মাতৃক বাংলাদেশে শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নদীর গতিপথ নষ্ট হচ্ছে, নাব্যতা হারাচ্ছে নদীগুলো।
উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে চর পড়ছে নদীগুলোতে। ইটাখলা, ডাউকিসহ শাখা নদীগুলো অস্তিত্ব হারিয়েছে। হাওরগুলো ভরাট হয়ে গেছে। স্থানে স্থানে জেগেছে চর। নদীর পাড় ভরাট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে তীরও দখল করে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। পলি পড়ার কারণে নদীগুলি প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে প্রাক মৌসমী বন্যার প্রবণতা বৃদ্ধি, নদীর নাব্যতা হ্রাস এবং কৃষি ও জনবসতি ভাঙ্গনের সম্মুখীন হচ্ছে।
এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল কালনী-কুশিয়ারা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা। নদীর দীর্ঘমেয়াদী সুস্থিত অবস্থার উন্নতিসাধন এবং উন্নয়নের জন্য সুস্থিত পরিবেশ তৈরীকরণ। প্রাক মৌসুমী বন্যা নিয়ন্ত্রন এবং বর্ষা উত্তর নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষির ক্ষতি কমানো। শুষ্ক মৌসুমে কালনী-কুশিয়ারা নদীতে নৌ-চলাচল ব্যবস্থার উন্নয়ন। আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নসহ এলাকার নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব রোধকরন। নদী ভাঙ্গনের ফলে উদ্ভূত পরিবেশ, সামজিক ও অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব রোধকরন। দারিদ্র বিমোজন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকরণ। প্রকল্প এলাকায় ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলি উপজেলা সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই, শাল্লা ও জগন্নাথপুর উপজেলা সিলেট জেলার সিলেট সদর, ফেঞ্জুগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলা। মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার সদর ও হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলা।
কালনী-কুশিয়ারা নদী ব্যবস্থপনা প্রকল্প এলাকা সিলেটের দক্ষিণে এবং ভৈরব বাজারের পূর্বে অবস্থিত। দক্ষিনে কুশিয়ারা-বিজনা-রটনা-সুতাং নদী, উত্তরে পুরাতন সুরমা-ডাহুক নদী এবং জগন্নাথপুর -সিলেট সড়ক, পশ্চিমে পুরাতন সুরমা বৌলাই এবং পূর্বে সিলেট-কাকটাই গ্রামীণ সড়ক দ্বারা পরিবেষ্ঠিত। প্রকল্পটি সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার গ্রস ৩,৩৫,৬০০ হেক্টর এলাকাব্যাপী বিস্তৃত।
প্রায় ১৫ বছর আগে গৃহিত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সিলেট বিভাগে বার বার বন্যা কবলিত হতো না। এছাড়াও সুনামগঞ্জের হাওরবাসীর স্বার্থে ১১টি উপেজলায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৩টি নদীতে ৯২৫ কিলোমিটার অংশ খননের একটি প্রকল্প নিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। একটি কারিগরি টিমের সঙ্গে নিজেও সরেজমিন জগন্নাথপুর উপজেলার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছিলাম। প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী ডিজাইন তৈরির জন্য সার্ভেও হয়েছিল। সার্ভের কাজ শেষে ডিজাইন অনুমোদন হলে পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদিত হয়।
দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। খননের প্রস্তাবনায় ছিল সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লার কুশিয়ারা নদী ৫৩ কিলোমিটার, দিরাই ও শান্তিগঞ্জের মরা সুরমা নদী ৩৪ কিলোমিটার, শাল্লার গুদি নদী ৬ কিলোমিটার, দোয়ারাবাজারের শিলা নদী ১৬ কিলোমিটার, জগন্নাথপুরের বিবিয়ানা ৩৪ কিলোমিটার, দিরাই ও শাল্লার চামতী নদী ৩৩ কিলোমিটার, দিরাই ও শাল্লার পুরাতন সুরমা নদী ২০ কিলোমিটার, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আবুয়া নদী ২০ কিলোমিটার, তাহিরপুরের বৌলাই ৫৩ কিলোমিটার ও পাটনাই নদী ২০ কিলোমিটার, বিশ্বম্ভরপুর ও সুনামগঞ্জ সদরের চলতি নদীর ১২ কিলোমিটার, ধর্মপাশার সোমেশ্বরীর ৫০ কিলোমিটার, কংশ নদী ২৭ কিলোমিটার, সুনামগঞ্জ সদর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশার সুরমা নদী ৫০ কিলোমিটার, সুনামগঞ্জ সদরের পিয়াইন নদী ৩৮ কিলোমিটার, তাহিরপুরের কেন্দুয়া ও আপার বৌলাইয়ের ১২ কিলোমিটার ও ১০ কিলোমিটার, ধর্মপাশার গুমাই ২০ কিলোমিটার ও উবাদখালী ১৫ কিলোমিটার, সুনামগঞ্জ সদরের জিরাক নদী ২০ কিলোমিটার, বিশ্বম্ভরপুরের ধলাই ২০ কিলোমিটার, তাহিরপুরের পাইকের তলা পাঁচ কিলোমিটার, বিশ্বম্ভরপুরের রূপসা ১০ কিলোমিটার, তাহিরপুরের আহম্মকখালী দেড় কিলোমিটার, তাহিরপুরের আহম্মকখালীর সোনাতলা খাল দেড় কিলোমিটার, দীঘা কাইতনার খাল চার কিলোমিটার, তাহিরপুরের মেশিনবাড়ী বোয়ালমারা খাল সাত কিলোমিটার, বিশ্বম্ভরপুরের পুটিয়ার খাল ১০ কিলোমিটার, বৌলা সুদামখালী খাল ১৪ কিলোমিটার, ধর্মপাশার ঘাসি নদী ২০ কিলোমিটার, দিরাইয়ের কালনী নদী ২২ কিলোমিটার, ছাতক ও দোয়ারাবাজারের সুরমা নদী ৫০ কিলোমিটার, জগন্নাথপুর - শান্তিগঞ্জের ডাউকি ০৮ কিলোমিটার, জগন্নাথপুর ও দিরাইয়ের কামারখালী নদী ৩৫ কিলোমিটার, দিরাইয়ের মহাশিং নদী ৪০ কিলোমিটার, জগন্নাথপুরের নলজুর নদী ৩৪ কিলোমিটার, দিরাই উপজেলার হেরা চাপতী নদী ১৫ কিলোমিটার, চাতল নদী সাত কিলোমিটার, ছাতক ও দোয়ারাবাজারের চিরাই নদী ২৫ কিলোমিটার, দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা নদী ১০ কিলেমিটার, ছাতকের জালিয়াছড়া নদী ১৬ কিলোমিটার, বোখাই নদী ১৭ কিলোমিটার ও বটেরখাল ১০ কিলোমিটার। সুনামগঞ্জের হাওরবাসীর দুঃখ ঘোচাতে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৯২৫ কিলোমিটার নদী খননের এই পরিকল্পনা কেন আলোর মুখ দেখলো না। এই দুর্যোগকালীন সময়ে এ প্রশ্ন তুলা কি অবান্তর। সরকার সম্প্রতি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি তালিকাভূক্ত নদী ও খাল নিয়ে রয়েছে সমস্যা। নদীগুলোকে প্রকল্পের আওতায় আনতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অনেকাংশে আপত্তি। তাদের বক্তব্য, খাল খননের প্রকল্পে স্বীকৃত নদী অর্ন্তভূক্ত করা যাবে না। কিন্তু নদী যদি খনন না হয় তাহলে খালের পানি কোথায় যাবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো ভাবনা নেই। নদী হোক আর খাল নামে হোক খননকাজ যেন পরিকল্পিত ও পূর্ণাঙ্গভাবে হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি।
শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে দুয়েকটি নদী-খাল খনন করলেই বন্যা সমস্যার সমাধান হবে না। ক্যাপিটাল ড্রেজিং করতে হবে। নদীগুলোর গতিপথ অনুযায়ী নদী শাসন নিশ্চিত করে বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণ জরুরি। সকল শাখা নদীগুলো বাঁচাতে হবে। নালা,খাল পুনরুদ্ধার করে টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। হাওর এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ রক্ষা করে টেকসই প্রকল্প গ্রহণ জরুরি। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কুশিয়ারা নদীর পানি পাড় উপছে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। বিষয়টি ভাবনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা : সাংবাদিক, সংগঠক।
আপনার মন্তব্য